বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালের অনিয়মে ঘটছে মৃত্যু

বগুড়া শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গড়ে উঠছে বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসাসেবার নামে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম চলছে অনেক প্রতিষ্ঠানে। প্রশাসনের সীমিত তদারকির সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়মের কারণে প্রায়ই ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করা অবৈধ। পাশাপাশি জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত মান বজায় রাখাও বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানেই এসব শর্ত মানা হচ্ছে না।

সম্প্রতি ঈদুল আজহার ছুটির সময় কয়েক দিনের ব্যবধানে তিন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই এসব প্রাণহানি ঘটেছে।

গত ৩০ মে শহরের খান্দার এলাকার সুস্বাস্থ্য ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অহনা নামে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যু হয়। ৩১ মে কানুছগাড়ী এলাকার সৃষ্টি জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আড়াই মাস বয়সী শিশু আবদুল্লাহ আল আয়ানের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২ জুন রাতে চকযাদু রোডের সারা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোছাঃ শাপলা আক্তার (২৮)।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জবা বালা রানী নামে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের মার্চে এনাম ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোকসানা নামে এক নারীর ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় আসে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া সদরে বর্তমানে ২১৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক, ২৭১টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ৬টি ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। এছাড়া অনুমোদনের বাইরে আরও চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বগুড়ার সিভিল সার্জন মোঃ খুরশীদ আলম বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়েছে। অনিয়মের দায়ে কয়েকটি ক্লিনিককে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেই, সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ মোঃ মুনছুর রহমান বলেন, নিম্নমানের ও অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। এতে মানসম্মত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজাদ হোসেন জানান, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালকে জরিমানা, সতর্ক এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button