
আবাসন খাতে বিনিয়োগকৃত অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। তবে এ ক্ষেত্রে অতীতের মতো কোনো বিশেষ কর সুবিধা না দিয়ে নিয়মিত হারে কর পরিশোধের মাধ্যমে অর্থ বৈধ করার বিধান রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।
এর আগে প্রস্তাবিত বাজেট মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়। বাজেটটি সংসদে ৩০ জুনের মধ্যে পাস হওয়ার কথা রয়েছে।
কী থাকছে নতুন বিধানে
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি জমি, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় প্রকৃত মূল্য গোপন করে থাকে, তাহলে সেই পার্থক্য রিটার্নে দেখিয়ে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে তা বৈধ করা যাবে।
- ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে
- বিক্রেতার ক্ষেত্রে একই পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূলধনী কর দিতে হবে
- স্বপ্রণোদিতভাবে ঘোষণা না দিলে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে
উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা
ধরা যাক, একজন ব্যক্তি ২ কোটি টাকায় ফ্ল্যাট কিনলেও দলিলে ৫০ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। তাহলে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার অপ্রদর্শিত অংশ রিটার্নে দেখাতে হলে তাকে ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা কর দিতে হবে।
আবার কর কর্তৃপক্ষ যদি প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে এবং পরে তা রিটার্নে দেখানো হয়, তাহলে অতিরিক্ত ৯ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
বিক্রেতার ক্ষেত্রেও একই পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে, যা উদাহরণ অনুযায়ী ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আইনি সুরক্ষা
নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা হলে তা নিয়ে ভবিষ্যতে অন্য কোনো আইনি প্রশ্ন তোলা যাবে না। তবে যেসব ক্ষেত্রে আগে থেকেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত বা মামলা চলমান, সেগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে না।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর
