
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অনুমোদনহীনভাবে ওয়াশরুম ক্লিনার ‘হারপিক’ ও খাবার স্যালাইন তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগে হামিদুল ইসলাম ওরফে মেজর (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তার কারখানা থেকে জব্দ করা বিভিন্ন মালামাল, নকল মোড়ক ও তৈরি করা পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সান্তাহার পৌর শহরের পাথরকুটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম এ দণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হামিদুল ইসলাম মেজর সান্তাহার পৌর শহরের পাথরকুটা এলাকার মৃত ময়েজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে।
জানাগেছে, হামিদুল ইসলাম মেজর দীর্ঘদিন ধরে সান্তাহার পৌর শহরের পাথরকুটা ও রেলওয়ে সাহেবপাড়া এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই ওয়াশরুম ক্লিনার ও খাবার স্যালাইন তৈরি করে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে আসছিলেন।
রোববার সান্তাহার উপহার টাওয়ার এলাকায় কয়েকটি দোকানে খাবার স্যালাইন বিক্রির সময় এক দোকানির সন্দেহ হলে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামিদুল ইসলাম মেজরকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ১১ কার্টন খাবার স্যালাইন জব্দ করা হয়। পরে তাকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়।
এরপর রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল ইসলাম মেজর নিজ বাড়িতে এসব পণ্য তৈরির কারখানা থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে তৈরি ওয়াশরুম ক্লিনার ও খাবার স্যালাইন, নকল মোড়ক এবং বিভিন্ন নকল পণ্য তৈরির উপকরণ ও আলামত পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে হামিদুল ইসলাম মেজরকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা অবৈধ পণ্য, নকল মোড়ক ও অন্যান্য মালামাল ধ্বংস করা হয়।
অভিযানকালে বগুড়া ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক জেসমিন বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



