আদমদিঘী উপজেলাপ্রধান খবর

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস, অবৈধ গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে মৃত্যু

বগুড়ার আদমদীঘিতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন মাফিয়া খাতুন ও জালাল উদ্দীন নামের কথিত দম্পতি। অবৈধ গর্ভপাত করাতে গিয়ে অধিক রক্তক্ষরণে মারা যান মাফিয়া খাতুন।

শুক্রবার সকালে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের পান্নার মোড়ের ভাড়া বাসা থেকে কথিত স্বামী জালাল উদ্দীনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানিয় সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর আত্রাইয়ের গন্ড গোহালি গ্রামের মৃত কমেল আলী মন্ডলের মেয়ে মাফিয়া খাতুনের (৩৬)। স্বামী পরিত্যাক্তা এই নারীর সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে পরিচয় ঘটে নওগাঁর রানীণগর উপজেলার সিম্বা গ্রামের জালাল উদ্দীনের। তাঁরা দেড় বছর আগে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের পান্নার মোড় এলাকায় ফেরদৌস মাহমুদের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন মাফিয়া খাতুন। অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ওই বাসায় আসেন কথিত দম্পতি জালাল ও মাফিয়া। ওই রাতে মাফিয়া অবৈধ গর্ভপাত (৬ মাস বয়সের বাচ্চা) করাতে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যায়।

শুক্রবার সকাল ৯টায় বাসার লোকজন মাফিয়াকে ডাকতে গিয়ে ঘটনাটি জানতে পেরে কথিত স্বামী জালালকে ফোন করে বাসায় ডেকে আনেন। জালাল ওই বাসায় আসলে পুলিশ তাঁকে আটক করে।

জালালের দাবি, তিনি একজন আদম ব্যবসায়ী। বিদেশে লোক পাঠানোই তাঁর কাজ। ওই নারীকে সৌদি আরব পাঠানোর জন্য তিনি চেষ্টা করছিলেন। এ জন্য মাঝে মাঝে তাঁর সঙ্গে ওই নারী যোগাযোগ রাখতেন। এর বেশি কোনো সম্পর্ক নেই।

বাসার মালিক ফেরদৌস মাহমুদ জানান, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে দেড় বছর যাবৎ বসবাস করতেন। তাঁদের কাছে বেশ কিছুদিন ধরে ভোটার আইডি কার্ড চাওয়া হচ্ছিল কিন্তু ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে কালক্ষেপণ করছিলেন।

সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া মর্গে পাঠানো হয়। কথিত স্বামী জালাল, বাসার মালিক ফেরদৌস ও তাঁর আরেক ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button