বগুড়ায় মূল বাঁধের দুয়ারে যমুনা, বাড়ছে ভাঙন আতঙ্ক
প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষা, ব্যয় বেড়েছে ৭৭০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ায় যমুনা নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণে প্রস্তাবিত বড় প্রকল্পগুলো দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাড়ছে ঝুঁকি। এরই মধ্যে নদীর ভাঙন এগিয়ে এসেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ মূল বাঁধের কাছাকাছি। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বগুড়ার অংশে যমুনা নদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটার তীরের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
পাউবো কর্মকর্তারা জানান, সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ মূল বাঁধ থেকে যমুনার ডান তীরের দূরত্ব এখন মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ মিটার। বাঁধ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ী সমাধানে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
যমুনার তীর রক্ষায় দুটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ডান তীর রক্ষায় প্রায় ২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা এবং বাম তীর রক্ষায় প্রায় ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পগুলোর জরিপ ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। অনুমোদন পেলেই স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা হবে।
তিনি জানান, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সারিয়াকান্দির কামালপুর থেকে ধুনট উপজেলার বানিয়াজান পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার যমুনার ডান তীর। এছাড়া সোনাতলার তেকানি-চুকাইনগর, সারিয়াকান্দির শিমুলতাইর ও পূর্ব সোজাইতপুর এলাকাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে প্রায় সাত বছর আগে ডান তীর সংরক্ষণে নেওয়া প্রকল্পটি বিভিন্ন সংশোধনের কারণে ব্যয় বেড়েছে। শুরুতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৭০ কোটি টাকায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, সারিয়াকান্দির বাম তীর রক্ষায় প্রায় ৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যমুনার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে কামালপুর এলাকায় মূল বাঁধের কাছাকাছি নদী চলে আসায় এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ কাজ শুরু না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
