সারাদেশ
প্রধান খবর

তনু হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে তলব: মরার আগে মেয়ে হত্যার বিচার চান তনুর বাবা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে কুমিল্লার আদালতে তলব করা হয়েছে। এতে নতুন করে বিচারের আশার আলো দেখছে তনুর পরিবার।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে তনুর পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে।

রাত ১১টার দিকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল বিকেলে তিনি কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পিবিআইয়ের তদন্ত দল মামলার বাদী তনুর বাবা ও কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের সঙ্গে তার অফিসে গিয়ে কথা বলেন।

পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে এখনই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) কিংবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে না। আদালতে এসে মামলার তদন্তের কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হবে।”

তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে এর বেশি কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুরুতে থানা-পুলিশ, পরে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরবর্তীতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।

পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার নথি সিআইডি থেকে পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, “মেয়ে হত্যার ১০ বছর পার হয়ে গেছে। অসংখ্যবার সেনানিবাস এলাকা, কুমিল্লা পুলিশ অফিস ও ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে সাক্ষ্য দিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। তদন্ত কর্মকর্তা সোমবার আদালতে থাকতে বলেছেন, আমি যাব। মরার আগে নতুন সরকারের কাছে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।”

সূত্র: বার্তা বাজার

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button