
মাত্র মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেও সাদা অ্যাপ্রন, গলায় স্টেথেস্কোপ এবং বুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ-এর ভুয়া আইডি কার্ড ঝুলিয়ে এক মাস ধরে ‘চিকিৎসক’ সেজে ঘোরাঘুরি করেছেন এক তরুণী। শেষ পর্যন্ত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সন্দেহে ধরা পড়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রী কমনরুম থেকে মনিকা আক্তার মিতু (৩২) নামের ওই নারীকে আটক করা হয়। পরে তাকে শাহবাগ থানা-য় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, গত এক মাস ধরে তিনি নিয়মিত ছাত্রী কমনরুমে আসছিলেন। নিজেকে শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিলেও তার চলাফেরা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সন্দেহ তৈরি হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে তাকে সামনে পেয়ে ছাত্রীরা বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। কিন্তু পড়াশোনা, ব্যাচ বা একাডেমিক তথ্যসংক্রান্ত কোনো প্রশ্নেরই সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। পরে বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাকে আটক করা হয়।
আটকের পর মিতু জানান, তার বাড়ি টঙ্গিবাড়ি এলাকায়। বর্তমানে রাজধানীর লালবাগ-এর পোস্তা এলাকায় স্বামীর সঙ্গে থাকেন। তিনি এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং নিজেকে একজন নিয়মিত টিকটকার বলে দাবি করেন।
তার আসল নাম মনিকা আক্তার মিতু হলেও নীলক্ষেত থেকে ‘নূপুর ইসলাম জান্নাত’ নামে ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করেছিলেন বলে জানা গেছে।
চিকিৎসক সাজার কারণ হিসেবে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার ডাক্তার হওয়ার খুব শখ ছিল। সেই শখ পূরণ করতেই অ্যাপ্রন ও স্টেথেস্কোপ কিনে ঢাকা মেডিকেলে যাতায়াত শুরু করেন। তবে কখনও ক্লাসরুমে ঢোকার সুযোগ পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
মো. রেজাউল করিম, শাহবাগ থানা-র উপপরিদর্শক (এসআই), জানান যে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। তার কাছ থেকে একটি অ্যাপ্রন, স্টেথেস্কোপ ও জাল আইডি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে টিকটক ভিডিও বানানো কিংবা শখের বশেই তিনি এমনটি করেছেন। তবে এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: সময় নিউজ



