
রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও বীভৎসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় উত্তাল সারা দেশ। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে আইনি লড়াইয়ে নামছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে, নৈতিক অবস্থান থেকে এই মামলার আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না পাঠানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার)।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে আইনজীবী শিশির মনির রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন,
“শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।”

তার এই ঘোষণার পর ভুক্তভোগী পরিবার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা সঞ্চারিত হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান এক ফেসবুক পোস্টে সমিতির কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো সদস্যই এই ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত সোহেল রানার পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না। বারের এমন সিদ্ধান্তে বিচারপ্রক্রিয়ায় আসামির ওপর নৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বক্তারা বলেন, রামিসার মতো নিষ্পাপ শিশুর সাথে যে বর্বরতা করা হয়েছে, তার একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত দ্রুততম সময়ে ফাঁসি।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুমের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। পুলিশি তদন্তে জানা যায়:
- অভিযুক্ত সোহেল রানা সকালে রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নেয়।
- সেখানে ধর্ষণের পর তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে।
- ঘটনার পর সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে স্থানীয়রা আটকে দিলেও সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযানে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে সে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে মামলাটি পল্লবী থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছে সাধারণ মানুষ।
তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ, কালের কণ্ঠ
