বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় মাঠের পর মাঠ যেন হলুদ ফুলের সমারোহ!!

কৃষকের মুখে হাসি, আছে শঙ্কাও

প্রতিবেদক: আতিকুল ইসলাম আতিক | বগুড়া লাইভ

যতদূর চোখ যায়, চারদিকে শুধু হলুদ আর হলুদ।
মাঠের পর মাঠ যেন হলুদ ফুলের সমারোহ।
দূর থেকে তাকালে মনে হয়-
দিগন্ত বিস্তৃত প্রান্তরজুড়ে
শিল্পীর হাতে আঁকা এক বিশাল হলুদ ক্যানভাস।

এই অপরূপ দৃশ্য বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের বুরইল গ্রামের। প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে কৃষকের স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর দুশ্চিন্তা।

আমন ধান কাটার পর এই এলাকার কৃষকেরা জমিতে রোপণ করেছেন সরিষা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আগাম জাতের সরিষায় বুরইল এলাকায় মিলেছে বাম্পার ফলন। হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠ, আর তাতে আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা।

কৃষকদের ভাষ্য, অন্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষ তুলনামূলক সহজ। খরচ কম, লাভ বেশি। প্রতি বিঘায় চাষে খরচ হয় মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। এ কারণেই দিন দিন এই অঞ্চলে সরিষা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা।

কৃষক মিন্টু সরকার জানান, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ করে তিনি আগাম জাতের সরিষা চাষ করেছেন। গাছে এসেছে বাম্পার ফলন। গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি করেছিলেন ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে। তবে এবার বাজারদর নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

তবে সব কৃষকের ভাগ্যে একরকম সুখবর নেই। আগাম জাতের সরিষায় ফলন ভালো হলেও নামলা বা পরে রোপণ করা সরিষার ফলন তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে নামলা সরিষায় ফুল ও দানা ঠিকমতো আসেনি। এতে অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৪৭১ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ২৬ মেট্রিক টন।

একদিকে সরিষার হলুদ ফুলে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, অন্যদিকে কৃষকের হাসি আর শঙ্কা-দুটো মিলিয়েই বুরইলের সরিষার মাঠ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম জাতের সরিষা যেমন দিচ্ছে আনন্দ, তেমনি নামলা ফসলের ক্ষতির ভাবনা কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

শেষ পর্যন্ত এই মৌসুমে কৃষকের লাভ-লোকসানের হিসাব কোন দিকে যাবে- সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সময়।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button