বগুড়া সিটি করপোরেশনের গেজেট প্রকাশ, দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরু
আধুনিক নগরসেবায় যুক্ত হলো নতুন এলাকা

উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর বগুড়া অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, বিদ্যমান পৌর এলাকার সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি সম্প্রসারিত এলাকা যুক্ত করে গঠন করা হয়েছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। নতুন এই প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রাথমিকভাবে ২১টি ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রসারিত এলাকার কারণে ভবিষ্যতে ওয়ার্ড সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১৪ মে রাতে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে “সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯”-এর প্রথম তফসিল সংশোধনের মাধ্যমে বগুড়া সিটি করপোরেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের কারণে শহরটির প্রশাসনিক কাঠামো সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন পায়।
পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থানীয় মতামত সংগ্রহ করে। জেলা প্রশাসনের সুপারিশ ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে সরকার চূড়ান্তভাবে সিটি করপোরেশন গঠনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
গেজেট অনুযায়ী, বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও মৌজা নতুন সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সীমানা নির্ধারণে উত্তরে নিশিন্দারা ও রাজাপুর ইউনিয়নের আংশিক এলাকা, দক্ষিণে আশেকপুর, মাদলা ও মাঝিড়া ইউনিয়নের অংশ, পূর্বে সাবগ্রাম, রাজাপুর ও মাদলা ইউনিয়নের অংশ এবং পশ্চিমে ফাঁপোড় ও এরুলিয়া ইউনিয়নের কিছু এলাকা যুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফুলবাড়ী, কাটনারপাড়া, সূত্রাপুর, চকবৃন্দাবন, মালগ্রাম, ঠনঠনিয়া, গাড়ামাড়া, মালতীনগর, লতিফপুর, ফুলদিঘী ও বেতগাড়ীসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় এসেছে।
বগুড়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মো. আব্দুল খালেক বলেন, “নতুন সিটি করপোরেশন গঠনের ফলে অন্তর্ভুক্ত এলাকার বাসিন্দারা আধুনিক নগরসেবার আওতায় আসবেন। ধাপে ধাপে সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, স্ট্রিট লাইটিং ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা গেলে সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বগুড়ার গুরুত্ব আরও বাড়বে।”
সিটি করপোরেশন ঘোষণার খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় ভোগা অনেক এলাকা এখন উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় আসবে বলে আশা করছেন তারা। তবে নতুন কর কাঠামো ও ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু নাগরিকের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করা গেলে বগুড়া উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আধুনিক নগরীতে পরিণত হতে পারে।
১৮৭৬ সালে বগুড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৮১ সালে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। দীর্ঘ ১৪৯ বছরের পথচলার পর এবার পূর্ণাঙ্গ সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলো বগুড়া পৌরসভা। ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে যাত্রা শুরু করা পৌরসভাটি এখন ২১টি ওয়ার্ডের বিস্তৃত নগর প্রশাসনে রূপ নিচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এটি যেন শুধু প্রশাসনিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর নগর পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তব উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়।