বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন-চিকিৎসক সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাটির তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে হাসপাতালের শিশু বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিশু নিহান বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকায় বসবাসকারী ব্যবসায়ী খোকন ইসলাম ও গৃহিণী নূপুর খাতুনের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সোনাতলা গ্রামে।

শিশুটির মা নূপুর খাতুন অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে খিঁচুনি ও বমি নিয়ে তার পাঁচ মাস বয়সী ছেলে নিহানকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ভর্তি করার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো চিকিৎসক শিশুটির সঠিক চিকিৎসা দেননি। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে বারবার সহায়তা চাইলেও তারা একে অপরের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছেন।

তার অভিযোগ, শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে এক ইন্টার্ন চিকিৎসক কিছু পরামর্শ দিলেও তাতে কোনো উন্নতি হয়নি। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিশুটি মারা যায়।

শিশুর মৃত্যুর পরপরই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এ সময় নিহানের ফুফু খুশি খাতুন এক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এরপর কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক একত্রিত হয়ে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে স্বজনদের শিশু ওয়ার্ডের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন নূপুর খাতুন। তার দাবি, সন্ধ্যা ৬টায় শিশুটি মারা গেলেও রাত ৯টা পর্যন্ত তাদের বের হতে দেওয়া হয়নি।

নূপুর খাতুন আরও জানান, তার ছেলে নিহান জন্মগতভাবে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল। বিশেষ করে মস্তিষ্কে সংক্রমণ থাকায় ঢাকার একটি হাসপাতালে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা করানো হয়। তিনি বলেন, “বগুড়ার চিকিৎসকরা যদি আমাদের দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিতেন, তাহলে আমরা আবারও সেখানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম।”

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটি জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল এবং এর আগে ঢাকায় পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল। বগুড়ায় অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক মঞ্জুর-ই মোরশেদ বলেন, “শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের একজন চিকিৎসক রয়েছেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। তদন্তে কোনো চিকিৎসকের অবহেলা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে গাইবান্ধার সোনাতলা উপজেলার নিজ গ্রামে শিশু নিহানের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মা নূপুর খাতুন।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button