
৬ দফা দাবিতে দেশব্যাপী কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকরা। এর অংশ হিসেবে রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়। একইদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল, বিএমইউ ও বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ, নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে উন্নীত করা, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো নির্ধারণ।
মানববন্ধনে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি অঘোষিত নোটিশের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আজ শুধু আমরা নই, সারা দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা একযোগে কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন। আমাদের ভাতা ৩০ হাজার টাকা এবং মিড-লেভেল ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করতে হবে। পাশাপাশি বিসিপিএসের পরীক্ষার ফি কমানো এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।”
এক ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, “আমরা সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত। রোগীদের ভোগান্তি হোক, তা আমরা চাই না। কিন্তু চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সেবাদানও ঝুঁকির মুখে পড়ে। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসকরা হামলার শিকার হচ্ছেন। তাই চিকিৎসকদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন এখন সময়ের দাবি।”
এদিকে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ও আন্দোলন চলবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তথ্যসূত্র: সময় নিউজ