
বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বগুড়া সাতমাথায় দলটির বিধ্বস্ত কার্যালয়ের সামনে কোনো কর্মসূচি, নেতাকর্মীর সমাগম কিংবা স্লোগান দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।

একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে ধানমন্ডি ও তেজগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোর সামনে। রাজধানীর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরেও বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি না থাকলেও মাঠে সক্রিয় ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। তারা অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা পালন করেন।
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা দাবি করেন, নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলকে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেবেন না। তাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই তারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ঢাকা, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গাজীপুর ও চট্টগ্রামসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি কয়েকটি জেলায় বিজিবিও দায়িত্ব পালন করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বড় কোনো কর্মসূচির খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দলটির ১৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও মিছিলের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের গুম, খুন ও সন্ত্রাসের বিচারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী। এদিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় দলটি।
ঢাকার বাইরে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিনভর পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত ছিল এবং কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা