
ব্যাংক ঋণ ও পাওনাদারের টাকা পরিশোধের জন্য দেওয়া চেক অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত (চেক ডিজঅনার) হওয়ায় দায়ের করা পৃথক পাঁচটি মামলায় বগুড়ার এক ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী-ছেলেসহ ৮ জনকে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট চেকের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বগুড়ার ১ম যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান হাবিব পৃথক পাঁচটি মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায় অনুযায়ী, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের বগুড়া শাখা থেকে নেওয়া ৮৬ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৫০ টাকার ঋণের বিপরীতে দেওয়া তিনটি চেক পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় দায়ের করা তিনটি মামলায় শাহসুলতান ফিড মিলস (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রাজাবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর, তার স্ত্রী শান্তনা বেগম এবং ছেলে সোহানুর সোহাগ দণ্ডিত হন।
প্রথম মামলায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭৫৫ টাকার চেকের বিপরীতে আব্দুল গফুর, শান্তনা বেগম ও সোহাগকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং একই পরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই ঋণের বিপরীতে দেওয়া আরও দুটি চেকের মামলায় আব্দুল গফুরকে পৃথকভাবে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং যথাক্রমে ৫ কোটি ৬১ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৮ টাকা ও ৮ কোটি ৫৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তিনটি মামলার বাদী ছিলেন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার শহীদুল আলম।
অন্যদিকে, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের মাঝিড়া শাখার ঋণের টাকা পরিশোধে দেওয়া চেক ডিজঅনারের মামলায় শাজাহানপুর উপজেলার দুবলাগাড়ী হাটের দুই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হারুনুর রশিদকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৪ লাখ ৭ হাজার ৮৮২ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলার শহীদ খোকন সড়কের শ্যামল কুমার দাস ও সুমা নামে এক দম্পতিকে যৌথ ব্যাংক হিসাব থেকে দেওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ কোটি ৪৫ লাখ ৫১ হাজার ৯৪০ টাকা ৬৯ পয়সা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
তথ্যসুত্র: দৈনিক করতোয়া