
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার নন্দীগ্রামে অনিয়ম, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ফাতেমা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, সেবা হসপিটালসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নন্দীগ্রাম পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড ও পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেন। পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং টিমের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইকবাল মাহমুদ লিটন।
অভিযানে জানাগেছে, ক্লিনিকগুলোতে অস্ত্রোপচার ও ডেলিভারির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি, হালনাগাদ লাইসেন্স না থাকা, নিয়মিত ডিউটি চিকিৎসক না থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ফাতেমা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকের পরিচালক দিনা পারভীনকে ১০ হাজার টাকা এবং সেবা হসপিটালের নুসরাত জাহানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে নন্দীগ্রাম ইসলামিয়া হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মঞ্জুরুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা এবং হেলথ কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আল মাসুদকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত বলেন, লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা প্রদান, স্যালাইন ও ইনজেকশন পুশ, স্টোমাক ওয়াশ ও ড্রেসিংসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার অভিযোগে দুই ফার্মেসি মালিককেও জরিমানা করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম হিন্দুপাড়ার আব্দুল কাদেরকে ২০ হাজার টাকা এবং ওমরপুর এলাকার আব্দুর রশিদকে ৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে বগুড়ার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে চলছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, নার্স, সহায়ক কর্মী, টেকনিশিয়ান ও ক্লিনারের সংখ্যা কম থাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো সেই সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তারা আরও জানায়, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত জনবল না থাকলেও চিকিৎসাসেবা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা বর্জ্য চিহ্নিতকরণ, পৃথকীকরণ ও যথাযথভাবে অপসারণের ব্যবস্থার ঘাটতিও রয়েছে।


