ছিনতাইকারীর টানে মৃত্যু, বগুড়ায় নিজ বিদ্যালয়ে অশ্রুসিক্ত বিদায় প্রধান শিক্ষিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চোখের চিকিৎসা শেষে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়ার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল রনজিনা পারভীনের (৫৬)। কিন্তু শনিবার রাতে তিনি ফিরলেন অ্যাম্বুলেন্সে, নিথর দেহ হয়ে। রোববার যে বিদ্যালয়ে জীবনের তিন দশকের বেশি সময় শিশুদের পড়িয়েছেন, সেই বিদ্যালয়ের মাঠেই সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানালেন।
রনজিনা পারভীন গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামী আব্দুল মতিনকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ঢাকায় যান তিনি।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে রিকশায় যাওয়ার সময় পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁর হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে রিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। স্থানীয়রা তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বামী আব্দুল মতিন বলেন, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথেই ছিনতাইকারীরা ব্যাগ ধরে টান দিলে তাঁর স্ত্রী রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রনজিনা পারভীনের একমাত্র সন্তান লাইসা আক্তার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলে, “আমার মতো আর যেন কাউকে এভাবে মা হারাতে না হয়। আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেহেনাজ আফরীন বলেন, রনজিনা পারভীন প্রতিদিন সবার আগে বিদ্যালয়ে আসতেন। প্রধান শিক্ষক হয়েও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতেন। শিক্ষকদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নিতেন এবং সবার অভিভাবকের মতো পাশে থাকতেন। তাঁর চলে যাওয়ায় তাঁরা একজন অভিভাবককে হারিয়েছেন।
১৯৮৮ সালের জানুয়ারিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন রনজিনা পারভীন। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে পরে প্রধান শিক্ষক হন। চাকরি জীবনের আরও প্রায় দুই বছর এক মাস ১৫ দিন বাকি ছিল তাঁর।
গাবতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, চাকরিজীবনে রনজিনা পারভীনের আরও প্রায় দুই বছর এক মাস ১৫ দিন চাকরির মেয়াদ বাকি ছিল।
রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার পর বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর মরদেহ নেওয়া হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।
সহকর্মীরা জানান, তিনি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতেন এবং শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক।
রোববার বাদ জোহর বিদ্যালয় মাঠে রনজিনা পারভীনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ আসর গাবতলী উপজেলার তরফসরতাজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।



