
নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি ছেলে কখনো হারিয়ে যেতে পারে না- এমন বিশ্বাস নিয়েই প্রতিদিন পথ চেয়ে বসে আছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ডহরপুর গ্রামের আফাজুল প্রামাণিকের পরিবার। কিন্তু দেখতে দেখতে ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো খোঁজ মিলছে না ২৭ বছর বয়সী শ্রমিক রাকিবুল ইসলামের। ছেলে কোথায়, কেমন আছে- এই উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে বাবা-মা, স্ত্রী ও স্বজনদের।
রাকিবুল ইসলাম উপজেলার ডহরপুর গ্রামের আফাজুল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি আদমদীঘি বাজারের একটি মুরগির দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২০ আগস্ট দুপুরে দোকান থেকে বাড়িতে ভাত খেতে আসেন তিনি। বাড়িতে এসে মাকে ভাত বাড়তে বলে বাইরে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা-সময় যত গড়িয়েছে, পরিবারের উৎকণ্ঠাও তত বেড়েছে। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি রাকিবুলকে। শেষ পর্যন্ত ছেলের সন্ধান চেয়ে আদমদীঘি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা আফাজুল প্রামাণিক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগে রাকিবুলের পারিবারিক জীবনেও চলছিল অস্থিরতা। স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায় এক মাস আগে স্বামীর ওপর অভিমান করে সুমাইয়া দেড় বছরের শিশু ছেলে সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ঢেকড়া গ্রামে চলে যান।
স্ত্রী ও সন্তান বাড়িতে না থাকায় রাকিবুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। এর মধ্যেই হঠাৎ তাঁর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় স্বজনদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
এখন পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অপেক্ষায়। দরজায় কোনো শব্দ হলেই স্বজনদের মনে হয় রাকিবুল ফিরেছে। ফোন বেজে উঠলেই বুক কেঁপে ওঠে- হয়তো পাওয়া গেছে নিখোঁজ ছেলেটির সন্ধান। কিন্তু প্রতিবারই অপেক্ষা শেষ হয় হতাশায়।
১১ দিন ধরে কোনো খোঁজ নেই রাকিবুলের। তাঁর বাবা-মা ও স্ত্রী এখন শুধু চান, যেকোনোভাবে প্রিয় মানুষটির সন্ধান মিলুক। জীবিত কিংবা যে কোনো অবস্থায়- ছেলের খবরটুকু জানতে চান তারা।
রাকিবুল কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন- এই প্রশ্নের উত্তরই এখন তাঁর পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় অপেক্ষা।



