বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ; ইন্টার্নদের কর্মবিরতি থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার পর নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে রাত ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
তবে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
নিহত রোগী মো: আব্দুল মালেক (৫০)। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মো: রাজিবুল ইসলামের ছেলে।
অ্যাজমাজনিত সমস্যায় চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার তাঁকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের বেডেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনেরা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের দেওয়া ভুল ইনজেকশনের কারণে আব্দুল মালেকের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে রোগীর কয়েকজন স্বজনের সঙ্গে বহিরাগত ব্যক্তিরাও হাসপাতালে প্রবেশ করে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, আহতদের মধ্যে তিনজনের হাতের হাড় ভেঙেছে।
জানা গেছে, প্রথম দফা সংঘর্ষের খবর পেয়ে হাসপাতালের ইন্টার্ন হোস্টেলে থাকা অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরে মেডিসিন ওয়ার্ডের সপ্তম তলায় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়।
দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে রোগীর ছয় স্বজন আহত হন। তাঁরা হলেন-বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকার মো. তানরিন (২৬), ফুলবাড়ীর মো: রাকিবুল হাসান (১৯), মো: প্রান্ত (২২), এম এম মিনহাজ (১৮), মো: নাফিউল (২৬) এবং ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়ার মো: বিপ্লব হোসেন (২৬)।
স্বজনদের অভিযোগ, সংঘর্ষের একপর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁদের সঙ্গে থাকা ছয়জনকে মারধর করে হাসপাতালের ভেতরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে যায় পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, হাসপাতালে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা পুলিশকে বলেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বহিরাগতরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে রোগীর ছয় স্বজনকে হাসপাতালে আটকে রাখার বিষয়টিও পুলিশ জানতে পারে।
ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ওই ছয়জনকে উদ্ধার করে। পরে তাঁদের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, ছয়জনের মধ্যে চারজন অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
পরে হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আহত রোগীর স্বজনদের চিকিৎসা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপপরিচালক মঞ্জুর-ই মোরশেদ বলেন, ‘একজন অ্যাজমা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কিছুসংখ্যক বহিরাগত হাসপাতালে ঢুকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারধর শুরু করেন। এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হাসপাতাল প্রশাসন ইতোমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।’
এদিকে সংঘর্ষের পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন ও পুলিশ।



