
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় কর্মবিরতিতে থাকা বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, নার্স এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তাঁরা এ ঘোষণা দেন। এরপর হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা হাসপাতালের বহির্বিভাগের (আউটডোর) টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু ছিল।
আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানান, তাঁদের চার দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকবে। পরে দুপুর ১২টার দিকে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. রাতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ, ডা. অর্পণ ও ডা. রিদওয়ান উদ্দিন চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং একজন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অ্যাটেনডেন্ট রাখার ব্যবস্থা করা।
এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাবকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের আব্দুল মালেক (৫০) অ্যাজমাজনিত সমস্যা নিয়ে মঙ্গলবার শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে হাসপাতালের বেডেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনেরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের দেওয়া ভুল ইনজেকশনের কারণেই আব্দুল মালেকের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তাঁরা দাবি করেন, হামলায় তাঁদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের আঘাত গুরুতর বলেও দাবি করেন তাঁরা।
এ ঘটনায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করে। পরে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি ব্যাহত হয়নি। মিডলেভেল চিকিৎসক, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য চিকিৎসকেরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু হয়েছে।



