বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) এ প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান।

বগুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ জুলাই বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বগুড়ার সব সংসদ সদস্য অংশ নেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী।

সভায় বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলেই বগুড়ার যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, এরপর বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া চারবার বগুড়া থেকে নির্বাচন করে প্রতিবার বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।

মোরশেদ মিলটন একটি নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে ভালো জায়গা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব দেন।

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির সভায় বগুড়ার সাতজন সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমি তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’

এর বাইরে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি উপাচার্য।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ সংসদে পাস হয়েছে। এখন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। নাম পরিবর্তন করতে হলে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। এরপর তা সংসদে পাস হতে হবে। ফলে এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয়।

এ বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদকে ফোন করা হলে তারা রিসিভ করেননি। তাদের মোবাইল নম্বরে খুদেবার্তা পাঠালেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

যেভাবে যাত্রা শুরু

তথ্যমতে, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ করা হয়েছিল। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির দুটি বিভাগেরও অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে আইনটি কার্যকর না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ৭ জুলাই ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত করা হয়। এর পরিবর্তে জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬’ বিল উত্থাপন করা হয়। তবে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য ড. মো. কুদরত-ই-জাহান।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি অনুষদের অনুমোদন পেয়েছি। প্রতিটি অনুষদে দুটি করে বিভাগ চেয়ে ইউজিসিতে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।’

তথ্যসূত্র: এশিয়া পোস্ট

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button