বগুড়ায় সার মনিটরিংয়ে গাফিলতি এবং বেশি দামে বিক্রি ও পাচারের অভিযোগ,‘কাজ করছে না ১৩ সদস্যের কমিটি’

রিপন দাস, বগুড়াঃ কৃষকদের জন্য সরকারের দেওয়া ভর্তুকির সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায়ও ১৩ সদস্যের এ কমিটি রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিয়মিত ও দৃশ্যমান মনিটরিং কার্যক্রম না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে উপজেলার সার ডিলারদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে নন-ইউরিয়া সার নিয়ে নানা অনিয়ম করে আসছেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, অনুমোদন ছাড়া এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে বিক্রি এবং পাশের উপজেলায় সার পাচারের মতো অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, উপজেলার ২৯ জন ডিলারের কাছে কখন, কোথা থেকে কত পরিমাণ সার আসে এবং কোথায় কত পরিমাণ বিক্রি বা মজুত থাকে এসব তথ্য নিয়মিতভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না। অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে এ ধরনের কার্যকর নজরদারির চিত্র খুব একটা দেখা যায় না।
অভিযোগ রয়েছে, গত তিন-চার বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মজুত, অনুমোদন ছাড়া অন্যত্র বিক্রি ও পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ সার স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের উদ্যোগে এবং সর্বশেষ বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের নির্দেশনায় উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস.এম. জুয়েল রানার নেতৃত্বে ও স্থানীয় জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উদঘাটন করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলেন, এসব ঘটনার পরও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিবের নিয়মিত তদারকিতে অবৈধ মজুত বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির ঘটনা শনাক্ত হওয়ার নজির খুব কম। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ্যারাইভাল না দিয়েই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সার সরিয়ে নেওয়া, অনুমোদন ছাড়া কীটনাশকের দোকানে সার বিক্রি এবং অন্যত্র পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি উপজেলা সদরের কিছু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকেও নন-ইউরিয়া সার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে কৃষকের।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রবিউল ইসলাম কাছে জানতে চাইলে তিনি সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি বা পাচারের সুযোগ নেই বলে দাবি করেন। তবে বিস্তারিত সাক্ষাৎকার দিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান।
এদিকে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম মাঠপর্যায়ে সার ডিলারদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এমন অবস্থা আর চলতে দেওয়া যাবে না। এমপি আব্দুল মহিত তালুকদারের সহযোগিতায় অতীতের চেয়ে অনেক বেশি মনিটরিং কাজ শুরু করা হয়েছে। সার নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়ন শুরু হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এতে ডিলারদের নানা অসঙ্গতি ও বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃষকের পকেট কাটার প্রবণতা বন্ধ হবে।”
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল বলছেন, সরকারি ভর্তুকির সার প্রকৃত কৃষকের কাছে নির্ধারিত মূল্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হলে শুধু কাগজে-কলমে কমিটি থাকলেই হবে না; নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন, ডিলারভিত্তিক মজুত ও বিক্রির হিসাব যাচাই এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাদের দাবি, ২৯ জন ডিলারের প্রত্যেকের সার উত্তোলন, মজুত, বিক্রি ও স্থানান্তরের তথ্য নিয়মিত যাচাই করা হলে সার নিয়ে অনিয়ম ও পাচারের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।



