
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ায় বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষককে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদ ইসলাম কিরনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তার বাবা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকা থেকে তাকে থানায় নেওয়া হয়।
পরে পুলিশ তাকে আটক দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আদালতে পাঠায়।
আটক রিয়াদ ইসলাম কিরন বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে বগুড়া সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ এলাকার বিপুল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষক আবু রায়হান ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছেন, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে শিক্ষক আবু রায়হান ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শরীরচর্চা বিষয়ের শিক্ষক।
অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত দুষ্টুমি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে শিক্ষক আবু রায়হান ওই শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছিলেন। একই সঙ্গে তার বাবাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে বলেছিলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার দিন বিকালে শিক্ষক আবু রায়হান মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে এপিবিএনের সামনে গাছের ডাল হাতে দাঁড়িয়ে ছিল ওই শিক্ষার্থী। শিক্ষক সেখানে পৌঁছালে তাকে মোটরসাইকেল থামাতে বলে কিরন। মোটরসাইকেল থামানোর সঙ্গে সঙ্গে গাছের ডাল দিয়ে শিক্ষকের মুখ ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে সে পালিয়ে যায়।
এতে শিক্ষকের মুখ, থুতনি ও চোয়ালের বিভিন্ন স্থানে কেটে যায়। আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তার চোয়ালের ক্ষতস্থানে সাতটি সেলাই দেন। আঘাতের কারণে তিনি ঠিকমতো খেতে ও কথা বলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।
এদিকে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র দিয়ে বহিষ্কার করে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা বিপুল মিয়া বলেন, তার ছেলে প্রথম শ্রেণি থেকেই বিয়াম মডেল স্কুলে পড়াশোনা করছে। এত বছরে সে কখনো এমন ঘটনা ঘটায়নি। হঠাৎ শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনি ছেলের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষককে দেখে এসেছেন।
পেশায় ট্রাকচালক বিপুল মিয়া বলেন, ছেলেকে পড়াশোনা করানোর জন্য তিনি বগুড়া শহরের একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন। ছেলের বয়স কম উল্লেখ করে তিনি তার ভুল বিবেচনায় নিয়ে ক্ষমা করার অনুরোধ জানান।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে তার বাবা থানায় নিয়ে আসার পর তাকে আটক দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষক আবু রায়হান ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


