আর কত বয়স হলে বয়স্কভাতা পাবেন বগুড়ার হোসনে আরা!

মাসুম হোসেন: সড়কের ধারে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছেন। সামনেই তার প্লাস্টিকের ছোট্ট একটি মগ। ঠিকমত চলাচলও করতে পারেন না তিনি বয়সের ভারে। ওই সড়ক দিয়ে পথচলা অনেকেই তাকে সাহায্য করছেন। তার সামনে রাখা মগটাতেই দিচ্ছেন দুই-এক টাকা।
বছর দশেক ধরে এভাবেই চলছে তার জীবন। দিনে কত টাকার সাহায্য পাচ্ছেন তা হিসাব করারও অবস্থা নেই তার। তাকে দেখে মনে হয় যেন মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। সম্প্রতি এক বিকেলে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে বগুড়া শহরের চকলোকমান এলাকার শ্যামলী মোড়ে।
সড়কে ধারে বসে থাকা ওই বৃদ্ধার নাম হোসনে আরা। হোসনে আরার সংসার হারিয়ে গেছে আজ থেকে ৫২ বছর আগেই। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার স্বামীসহ সন্তানরা নিহত হন। তিনি ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই তার পরিবারে। পরে আর বিয়েও করেননি তিনি। নিঃসঙ্গ জীবন তার। থাকেন চকলোকমান এলাকায় শ্যামলী মোড়ে। তার বড়বোন সেতেরা বেগমের ভাড়াবাড়িতে। কমিশনারের কাছে অনেকবার গিয়েছিলেন তিনি। বয়স্কভাতা পাওয়ার সুবিধাও তাকে দেওয়া হয়নি। তাই সড়কে বসে সময় কাটে তার অন্যের সাহায্য পাওয়ার অপেক্ষায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কফিল উদ্দিন ও ইয়াছিন আলীসহ আরও অনেকে জানান, প্রতিদিন সকালে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কের ধারে বসে থাকেন হোসনে আরা। অন্যের সাহায্যে-সহযোগিতাতেই তার জীবন চলে। এখানে তার বাড়িঘর নেই। থাকেন তার বোনের বাড়িতে।
হোসনে আরার বোন সেতেরা বেগম বলেন, হোসনে আরা ছাড়া তার পরিবারে কোনো সদস্যই বেঁচে নেই। একারণে আমার বাড়িতেই সে থাকে। তাকে সহযোগিতা করার জন্য কেউ-ই এগিয়ে আসেননি। সবাই শুধু আশ্বাসই দেন। বাস্তবে আমার ছোটবোন হোসনে আরার পাশে কেউ দাঁড়াননি।
সেতেরা বেগমের ছেলে ওয়াসিম খান বলেন, হোসনে আরার জন্য আমরা অনেকবার কমিশনারের কাছে গিয়েছিলাম। এরপরেও তাকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে বগুড়া পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এনামুক হক সুমন বলেন, আমি ওই বৃদ্ধাকে চিনি। তারা আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা নন। তাদের বসবাস ১১ নম্বর ওয়ার্ডে।
তবে ওয়াসিম খান বলেন, আমরা ১২ নম্বর ওয়ার্ডেরই ভোটার। আমার খালা হোসনে আরাও একই ওয়ার্ডের ভোটার। তবে বর্তমানে চকলোকমান শ্যামলীর মোড় এলাকায় আমরা বাড়িভাড়া নিয়ে বসবাস করছি। এই এলাকাটা ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায়। কিন্তু এতে তো কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমরা তো ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ঠনঠনিয়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ভোটার। এরপরেও কমিশনার এনামুল হক সুমন মিথ্যা কথা বলছেন। তিনি (কমিশনার) আমাদের সহায়তা করার বদলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।