প্রধান খবরবগুড়া জেলা

বগুড়ায় ট্রাফিক পুলিশের ‘গায়েবি’ বিল আদায়

মাসুম হোসেন: ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেকার বিলের রশিদ ধরিয়ে দেওয়া হয় চালকদের হাতে। শুধু তাই নয়, দাঁড়ানো ট্রাক থেকেও আদায় করা হয় একই বিল। অথচ ওই ট্রাকগুলোতে রেকার লাগানোই হয় না। বগুড়ার ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে রয়েছে এমন অভিযোগ। এছাড়াও ট্রাকচালকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারাও নেয় তারা।

গত ২৩ জুলাই (রোববার) দুপুরে বগুড়ার সুজাবাদ এলাকায় মহাসড়কে (বাইপাস) গিয়ে দেখা গেছে, বগুড়া সদরের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কাছে আকুতি-মিনতি করছেন ট্রাকের এক চালক। তার ট্রাকে ৫ হাজার টাকা রেকার বিল করা হয়েছে। অথচ ওই ট্রাকে রেকার লাগানোই হয়নি। এরপরেও রেকার বিল কমানোর জন্য ট্রাকচালক রাহিম অনুরোধ করছিলেন। এক পর্যায়ে সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে ৪ হাজার টাকা দিতে বলেন। এতেও রাজি হচ্ছিলেন না রাহিম।

বগুড়ার সাবগ্রামের বাসিন্দা ট্রাকচালক রাহিম। তিনি জানান, ট্রাক নিয়ে বগুড়ার সাবগ্রাম এলাকা থেকে বনানীর দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে সুজাবাদে তার ট্রাক থামিয়ে হাতে ৫ হাজার টাকা রেকার বিলের রশিদ ধরিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাকে রেকার না লাগিয়েই এ বিল করা হয়। তার পক্ষে ৫ হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই জরিমানা কমানোর চেষ্টা করছিলেন।

তিনি আরও জানান, রেকার বিল শুধু তার ট্রাকেই করা হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়। তার সামনেই আরও তিন ট্রাকচালক রেকার বিল পরিশোধ করে চলে গেলেন। তাদের ট্রাকেও রেকার লাগানো হয়নি। এভাবেই টাকা আদায় করে ট্রাফিক পুলিশ।

রেকার না লাগিয়ে বিল করার কারণ জানতে চাইলে সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাহিমের ট্রাকের কাগজপত্র ঠিক নেই। ৫০ হাজার টাকার মামলা দেওয়া যাবে তাকে। মানবিক দিক বিবেচনা করে ৫ হাজার টাকা রেকার বিল করা হয়েছে। আর রাহিমকে জরিমানা থেকে আরও ১ হাজার টাকা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সার্জেন্ট মামুন আরও বলেন, রাহিমের ট্রাকে রেকার বিল করেছেন সার্জেন্ট ওমর ফারুক। তার সাথে কথা বলেন।

তবে, এর আগে সার্জেন্ট ওমর ফারুকের কাছে রেকার বিলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। ওই সময় তিনি বলেন এসব বিষয়ে সার্জেন্ট মামুন জানেন। কারণ সার্জেন্ট মামুন এখন এখানকার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ কথা বলেই মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ওমর ফারুক।

ট্রাকচালকদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশ বগুড়ার বনানী ও সুজাবাদ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতিদিনই রেকারের নামে গায়েবি বিল আদায় করে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। ট্রাকে রেকার না লাগিয়েই মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয় ট্রাফিক পুলিশ। এই দুই পয়েন্ট থেকে দিনে ৫০-৬০ হাজার টাকা আদায় হয়।

বগুড়ার বেজোড়া এলাকার বাসিন্দা ট্রাকচালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, রেকারের নামে বিল আদায় করে ট্রাফিক পুলিশ। তাদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে আছি। এছাড়াও প্রতিমাসে ট্রাফিক ফাঁড়িতে ৭০০ টাকা করে দিতে হয়। মাসিক টাকা না দিলে রাস্তায় পেলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় আমাদের।

তিনি আরও জানান, তাদের কাছ থেকে ২০০০-৫০০০ টাকা রেকার বিল আদায় করে ট্রাফিক পুলিশ।

জানতে চাইলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) হেলেনা আকতার বলেন, অনেক সময় কাগজপত্র ঠিক না থাকা ট্রাকে রেকার বিল আদায় করা হয়। তবে ট্রাকের কাগজপত্র ঠিক থাকলে রেকার বিল নেওয়া হয় না। আটকের পর রেকার দিয়ে পুলিশ লাইন্সে ট্রাক নিয়ে আসতে হয়। কিন্তু সেখানে গাড়ি রাখার জায়গা কম হওয়ায় রাস্তাতেই ট্রাক আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন রেকার বিল আদায় করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ট্রাকের কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও কোনো ট্রাফিক পুলিশ সদস্য অবৈধভাবে অর্থ নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ যদি চালকদের কাছ থেকে মাসিক চুক্তিতে টাকা নেন-এমন প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button