বগুড়া সদর উপজেলা

পাটশিল্প ও পাটচাষী রক্ষা সহ বিভিন্ন দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন

রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল, পাটকল বন্ধ নয় আধুনিকায়ন করা, পাট খাতে দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ, ভুলনীতি পরিহার এবং পাট, পাটশিল্প ও পাটচাষী রক্ষার দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলা শাখার সোমবার বেলা সাড়ে১১টায় সাতমাথায় মানববন্ধন সমাবেশে করেছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলা সমন্বয়ক, সিপিবি জেলা সভাপতি কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না।

মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক কমরেড অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, সিপিবি জেলা সদস্য সন্তোষ কুমার পাল, বাসদ জেলা সদস্য শ্যামল বর্মন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী পাটের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমান কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে পরিবেশ বান্ধব এই শিল্পের চাহিদা দেশে এবং বিদেশে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোর বৃহত্তম জোট শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপের পক্ষ থেকে পাট শিল্পকে আধুনিক ও লাভজনক করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাাবনা তুলে ধরেছিল এবং সরকারের বিভিন্ন মহলে জানিয়েছিল। ফলে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে পাট শিল্পকে আধুনিকায়ন করে নতুন উদ্যমে চালু করা হবে। কিন্তু তা না করে পাটকল বন্ধের পদক্ষেপ শ্রমিক ও দেশপ্রেমিক জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। তিনি আরও বলেন করোনা দুর্যোগের এই সময়ে কারখানা বন্ধের ঘোষণা বেসরকারি মালিকদেরকে শুধু উৎসাহিত করবে তাই নয়, তাদেরকে বেপরোয়া করে তুলবে। শ্রমিক ছাঁটাই করে সরকারের প্রণোদনা নেয়ার প্রবণতা বাড়বে, যার ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ সৃষ্টি হবে।

তাই রাষ্ট্রীয় পাটকল সমুহ বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পূর্ণোদ্দমে পাটকলগুলো চালু করা ও পাট শিল্পকে আধুনিক করার দাবী জানান।

বক্তারা আরও বলেন, পাট এবং পাটকল বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত। স্বাধীনতার পর দেশে মোট ৭৭টি পাটকল ছিল। গত ৪৯ বছরে শাসকশ্রেণির দুর্নীতি ও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর পরামর্শে গৃহীত ভুলনীতির ফলে এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজীসহ প্রায় ৫০টির বেশি পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ সারা দুনিয়ায় এখন পলিথিনসহ কেমিক্যাল দ্রব্য বর্জনের ফলে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার ও চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশে অবস্থিত পাটকলগুলোও সরকার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের প্রায় ৩ লাখ সদস্য এবং পাটচাষী পরিবারের ৩ কোটি সদস্য পাট ও পাট শিল্পের সাথে যুক্ত। তাদের জীবন ও জীবিকা ধ্বংসের আত্মঘাতি-গণবিরোধী এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি অনাস্থা জানান। অন্যথায় পাটকল শ্রমিক ও পাটচাষীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধে সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য করা হবে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button