বগুড়া সদর উপজেলা

বগুড়া সদর উপজেলায় মূলা চাষে সফল কৃষকেরা

হারুন-অর-রশিদঃ বগুড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মূলা চাষ। এ বছর বগুড়া সদর উপজেলায় প্রায় এগারো টা ইউনিয়নে খোজ নিয়ে জানা যায় অধিকাংশ কৃষক মূলা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জনা গেছে, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে মূলা চাষ হয়েছে। চাষকৃত জমি থেকে প্রায় হেক্টর প্রতি ২৫ মেট্রিক টন মূলা উৎপাদিত হবে এমন টায় আশা করছেন বগুড়া সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, বর্তমানে মূলা কৃষকদের কাছে অনেকটা অর্থকরি ফসল। কৃষকেরা কম খরচে ও কম সময়ে মুলা চাষ ও তা বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছর মূলা চাষের ৪০ দিনের মধ্যে শাকসহ ছোট মুলা বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছেন বগুড়ার কৃষকরা। শুরুর দিকে শাকবিহীন মূলা ১৫০০থেকে ১৮০০ টাকা মণ দরে বাজারে বিক্রি হলেও বর্তমানে কিছুটা কম মূল্যে বাজারে বিক্রি করেও খুশি কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল “আর্লি ফর্টিন” জাতের জাপানি হাইব্রীড মূলার চাষ হয়েছে। এসব জাতের মূলা আগাম ভাবে রোপণের ৪০ দিনের মধ্যে হয়ে যায় বলে জানান কৃষি বিভাগ।

এ ছাড়া মূলা চাষে কৃষকরা কয়েকটি সুবিধা পেয়ে থাকে। মূলার পাশাপাশি এর পাতাও শাক হিসেবে বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে। এ ছাড়া আন্ত ফসল হিসেবে বিভিন্ন সবজি ও রবি ফসলের সাথে মূলা চাষ করে জমির বহুমুখি ব্যবহার করা য়ায়। এতে জমির উর্বরতা ঠিক থাকে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। ১৬ অক্টোবর থেকে রবি শষ্য সময় শুরু হলেও বগুড়ার কৃষক রা আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে মুলা চাষ করে ৪০ দিনের মাথায় তা তুলে একই জমিতে আবার মূলা লাগাচ্ছেন। যা একক বা সাথী ফসল হিসেবে পুরো শীত মৌসুম পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেন জানান।

শাখারিয়া ইউনিয়নের কৃষক ছলিম উদ্দিন ও হোসেন আলী জানান, মূলা চাষে তাদের তেমন কোন খরচ হয়নি। খুব স্বল্প খরচে তারা মূলা উৎপাদন করেছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে মুলা চাষে কৃষকদের জমিতে স্থানীয়ভাবে জৈব সার ও অল্প পরিমাণে পটাস সার দেয়ার পরামর্শ দেয়ায় মূলা খুব ভালো হয়েছে। এবং তারা মূলার ভালো দাম পাচ্ছেন।

বগুড়া সদর উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ এনামুল হক বগুড়া লাইভকে জানান মূলা বর্তমানে বাংলাদেশের একটি অর্থকরি ফসল। এটা চাষ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এ কারণে একক ও সাথী সফল হিসেবে মুলা চাষ কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগ মূলা চাষে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button