
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় ছয় বছরের এক শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে গুমের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত রাকিকা আক্তার রাকা (৬) সান্তাহার ইয়ার্ড কলোনি এলাকার বাসিন্দা রায়হান আলীর মেয়ে। সে স্থানীয় একটি নুরানি মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় রাকা। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধান না পেয়ে তার বাবা বিষয়টি পুলিশকে জানান।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সান্তাহার পৌরসভার সাহেবপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর রাকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি আমজাদ হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষে রাখা ছিল বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন আমজাদ হোসেনকে আটক করে রাখেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রধান অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন (৪০), তার স্ত্রী বন্যা (৩২) এবং সহযোগী বাবুকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে আটক করে। গণপিটুনিতে আহত আমজাদ ও তার স্ত্রীকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে ভরে ঘরের পাশে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা