বগুড়ায় মা’কে মুজুরি কম দেয়ার প্রতিবাদ করায় ছেলেকে হত্যা

বগুড়া দুঁপচাচিয়া ধানের চাতালে কর্মরত মাকে মজুরি কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় জুয়েল হোসেন নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে আহত করেন চাতাল মালিক ও তার লোকজন।
শুক্রবার দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- দুপচাঁচিয়া উপজেলার ছোট পাইকপাড়া গ্রামের আফসার আলী (৬৫) ও ধারশুন গ্রামের সালামতের ছেলে সাদিকুল ইসলাম ভোলা (২৫)। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কলেজ গেইট এলাকায়।
জোছনা বেগম জানান, মাসিক চার হাজার টাকা মজুরির বিনিময়ে স্থানীয় একটি চাতালে কাজ নেন তিনি। প্রতি বছর মজুরি বৃদ্ধির কথা বললেই ৫০০ টাকা করে মজুরি কমিয়ে দিতেন মালিক। এভাবে গত দু’বছরে এক হাজার টাকা কমিয়ে তিন হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। অভাবের কারণে এই বেতনেই কাজ করতে থাকেন জোছনা বেগম। কিন্তু গত মাসে আবারো ৫০০ টাকা কম দেন চাতাল মালিক। বিষয়টি জুয়েল জানতে পেরে ৪ জুন মাকে এভাবে ঠকানোর প্রতিবাদ করে এবং চাতাল মালিক আক্কাছ আলী ওরফে রড আক্কাছের কাছে এর কারণ জানতে চায়। এ সময় মালিক তাকে প্রথমে বকাঝকা করেন। এক পর্যায়ে অন্য শ্রমিকদের সহায়তায় জুয়েলকে বেদম মারধর করেন আক্কাছ আলী। এতে জুয়েল গুরুতর আহত হলেও তাকে কোনো হাসপাতালে ভর্তি না করতে এবং বিষয়টি অন্য কাউকে না জানাতে হুমকি দেন তিনি। পরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুয়েলের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় জুয়েলের মা জোছনা বেগম দুপচাঁচিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
জোছনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, চাতাল মালিকদের ভয়ে আমি আহত ছেলেকে নিয়ে কাহালুতে আমার ফুফাতো বোনের বাসায় যাই। সেখানে বিনা চিকিৎসায় আমার ছেলে মারা যায়। স্থানীয় চিকিৎসকরা বলেছেন, সঠিক সময়ে জুয়েলকে হাসপাতালে নিলে বাঁচানো যেত।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। জুয়েলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসএ




