
দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সদ্যবিদায়ী মাস ডিসেম্বর। এ সময়ে প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ডিসেম্বরে আসা রেমিট্যান্স আগের মাস নভেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩৪ কোটি ডলার বেশি। নভেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। একই সঙ্গে গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৫৯ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে এসেছিল ২৬৪ কোটি ডলার।
ব্যাংকভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্র হলো—
জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল ওই অর্থবছরের রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রণোদনা, বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং হুন্ডি কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ



