অর্থ ও বানিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন গভর্নর নিয়োগে বিতর্ক

ড. আহসান এইচ মনসুর-কে সরিয়ে গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমান-কে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ব্যবসায়ী মহলের প্রতিক্রিয়া

মোস্তাকুর রহমান একজন এফসিএমএ হিসাববিদ ও নারায়ণগঞ্জভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেরা সোয়েটার্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর করা হলো।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি তাসকিন আহমেদ এই নিয়োগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, নতুন গভর্নর ব্যবসা-বাণিজ্যের চলমান সমস্যার সমাধান, বৈদেশিক বাণিজ্য সহজীকরণ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

এছাড়া বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীমও আশা প্রকাশ করেছেন, ব্যবসায়িক পটভূমি সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।

অর্থনীতিবিদদের সংশয়

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গভর্নর পদ অত্যন্ত সংবেদনশীল। হঠাৎ পরিবর্তন ভালো বার্তা দেয় না। গভর্নরকে আর্থিক নীতি, বিদেশি ঋণ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়।

অন্যদিকে, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান মনে করেন, ব্যবসায়িক পটভূমির ব্যক্তিকে গভর্নর করা হলে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা থাকে। কারণ গভর্নরের মূল দায়িত্ব মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ব্যাংক খাত ইতিমধ্যে খেলাপি ঋণ, সুশাসনের অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাবের সংকটে রয়েছে। তাই গভর্নর নিয়োগে স্বচ্ছতা, পেশাগত স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

মূল প্রশ্ন

নতুন এই নিয়োগ অর্থনৈতিক সংস্কার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকে এগিয়ে নেবে, নাকি সংস্কারের ধারায় প্রভাব ফেলবে-এটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button