
পবিত্র রমজান মাসে আমাদের দেশে খেজুর খাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে-সুস্থ থাকতে ও দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি দূরে রাখতে সারা বছরই নিয়ম করে খেজুর খাওয়া যেতে পারে। দিনে মাত্র ২-৩টি খেজুর শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর
প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭-৩১৪ ক্যালরি থাকে। এটি দৈনন্দিন পটাশিয়ামের চাহিদার প্রায় ১৫%, ম্যাগনেশিয়ামের ১৩-১৪% এবং কপার ও আয়রনের প্রায় ৪০% সরবরাহ করে। এছাড়া রয়েছে ভিটামিন বি৬ ও শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট-ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিড।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি
খেজুরে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন ‘ইন্টারলিউকিন-৬’-এর মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। ফলে স্মৃতিভ্রম বা আলঝেইমারসের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা
সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও ম্যাগনেশিয়াম-এই খনিজগুলো অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোধে সহায়ক। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও নারীদের জন্য খেজুর হাড় মজবুত রাখতে উপকারী।
প্রজনন ক্ষমতা ও রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ
ভিটামিন বি৬ ও ম্যাগনেশিয়াম শুক্রাণুর গুণমান ও গতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে। আয়রন রক্তশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে, যা গর্ভাবস্থায় বিশেষ উপকারী। পাশাপাশি আয়রন চুল পড়া রোধেও ভূমিকা রাখে।
শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উৎস
অন্যান্য শুকনো ফলের তুলনায় খেজুরে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের ঘনত্ব বেশি। এগুলো শরীরকে ‘ফ্রি র্যাডিক্যাল’-জনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয় এবং কোষের বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করতে সহায়তা করে।
খেজুরের বিশেষ উপকারিতা
হজম ও অন্ত্রের সুরক্ষা
উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়ে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্স্বাস্থ্য
পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে। ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে এবং উপকারী এইচডিএল বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়। নিয়মিত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে ধমনির নমনীয়তা বজায় থাকে।
পরামর্শ: খেজুর প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি ও ক্যালরিসমৃদ্ধ। তাই ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো



