আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সার্বিয়াজুড়ে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের, ২৭ জানুয়ারি বেলগ্রেডে বড় সমাবেশের ডাক

ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় হাজারো মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নোভি সাদে হাজারো মানুষের সমাবেশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরে হাজারো মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। বিক্ষোভে ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ-এর শাসনামলে চলমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

সমাবেশ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা ‘চোর’ স্লোগান দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত রূপরেখা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সার্বিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করেছেন।

ভুচিচ-পরবর্তী সরকারের জন্য তারা-

  • দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা
  • তাদের সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত
    এই পদক্ষেপগুলোর প্রস্তাব দেন।

নির্বাচনের দাবিতে চার লাখ স্বাক্ষর

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, গত মাসে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের দাবির পক্ষে প্রায় চার লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। আন্দোলনের আয়োজকদের মতে, পরবর্তী বড় বিক্ষোভ সমাবেশ আগামী ২৭ জানুয়ারি রাজধানী বেলগ্রেড-এ অনুষ্ঠিত হবে।

রেলস্টেশন দুর্ঘটনা থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সার্বিয়ার উত্তরের একটি শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে নিয়মিত ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ শুরু হয়। এই দুর্ঘটনাটি দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

ছাদধসের ঘটনায় সাবেক নির্মাণমন্ত্রী গোরান ভেসিচসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে প্রমাণের অভাব দেখিয়ে নোভি সাদের হাইকোর্ট গত মাসে ভেসিচের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয়।

একই সঙ্গে প্রকল্পটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে একটি পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে।

সরকারের পতন হলেও ক্ষমতায় ভুচিচ

এই আন্দোলনের চাপেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং তার সরকারের পতনের পর নতুন সরকার গঠিত হয়। তবে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ ক্ষমতায় থেকেই যান।

ভুচিচ সব দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি প্রায়ই বিক্ষোভকারীদের ‘বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত অভ্যুত্থানচেষ্টাকারী’ বলে আখ্যা দেন। তার দল এসএনএস-এর নেতারা দাবি করেন, রেলস্টেশনের ছাদ ধসটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।

তথ্যসূত্র: কালবেলা

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button