
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে গত এক দশকে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করা ষষ্ঠ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি।
স্টারমার জানান, তিনি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পদত্যাগের ঘোষণা দিতে গিয়ে স্টারমার বলেন, তিনি এমন এক সময়ে লেবার পার্টির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, যখন দলটি রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিকভাবে গভীর সংকটে ছিল। সে সময় অনেকেই মনে করেছিলেন দলটির ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তার নেতৃত্বে দলটি আবারও জনসমর্থন ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্বে দল থেকে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ দূর করা হয়েছে এবং অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে দলের ভেতরে আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কিনা-এ প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। দলের অবস্থান উপলব্ধি করেই তিনি সম্মানের সঙ্গে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
স্টারমার বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই নিয়েছেন। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং নতুন নেতাকে সর্বাত্মক সমর্থন দেবেন।
তিনি আরও জানান, আগামী ৯ জুলাই থেকে নতুন নেতৃত্বের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে। গ্রীষ্মকালীন সংসদীয় বিরতির মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরের আগেই লেবার পার্টির নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং তিনিই যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পাশে থাকা বন্ধু, সহকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্টারমার। একই সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এখন তিনি তার স্ত্রী ভিকের জন্য আরও ভালো স্বামী এবং সন্তানদের জন্য আরও ভালো বাবা হতে চান। বক্তব্য শেষে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে তিনি ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরে ফিরে যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের এই পদত্যাগ যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে লেবার পার্টি আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা