আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

খামেনি হয়ে উঠলেন যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসনব্যবস্থা ব্যতিক্রমধর্মী। সেখানে জনগণের ভোটে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে এই শাসনব্যবস্থা চালু হয়। সে সময় এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইরানের রাজা মোহাম্মদ রেজা পাহলভী এর রাজতন্ত্র উৎখাত করা হয়। বিপ্লবের পর ইরানে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র, যেখানে “ভেলায়াতে ফকিহ” বা ধর্মীয় অভিভাবকত্বের নীতির ভিত্তিতে সর্বোচ্চ নেতার পদ সৃষ্টি হয়। প্রথম সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন রুহোল্লাহ খোমেনি।

১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই পদে বহাল রয়েছেন।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (কমান্ডার-ইন-চিফ)। তিনি বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা রাখেন। পাশাপাশি দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্তেও তার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

এমনকি ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেবে কি না বা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা-র সঙ্গে সহযোগিতার মাত্রা কেমন হবে-এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও সর্বোচ্চ নেতার-মতামতই নির্ধারক ভূমিকা পালন করে।

এই বিশেষ রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button