
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় এক বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন। রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
নিহত বাংলাদেশির নাম সালেহ আহমেদ বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ এক প্রবাসী। তিনি জানান, আমিরাতের আজমান এলাকায় হামলার সময় সালেহ আহমেদ নিহত হন। তিনি সেখানে পানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
জানা গেছে, সালেহ আহমেদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। পরে তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজীটেকা এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
গত শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ইরানের ছোড়া ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই প্রতিহত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিতীয় দিনে আমিরাতের বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে কয়েকটি সাগরে পড়েছে। পাশাপাশি ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ২১টি ড্রোন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলা শুরুর পর থেকে মোট ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৩টি সাগরে পড়েছে। এছাড়া শনাক্ত হওয়া ৫৪১টি ড্রোনের মধ্যে ৫০৬টি ভূপাতিত করা হলেও ৩৫টি ড্রোন আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত হেনে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
এ হামলায় পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের তিন নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। আহতদের মধ্যে আমিরাত, মিসর, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন ও আফগানিস্তানের নাগরিক রয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ে কিছু বেসামরিক স্থাপনার হালকা থেকে মাঝারি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং নাগরিক, বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো


