আইন ও অপরাধ

স্বাধীনতার পর দেশে নারীদের কারও ফাঁসি এখনো কার্যকর হয়নি

দেশের কারাগারগুলোতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৯৪। তাদের মধ্যে নারী ৯৪ জন। তবে স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশে কোনো নারী বন্দির ফাঁসি কার্যকর হয়নি—কারা অধিদপ্তরের তথ্যে এমনটাই উঠে এসেছে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের ‘মৃত্যুদণ্ডাদেশ সেল’-এ রাখা হয়। কোথাও একজন, আবার কোথাও একাধিক বন্দি একসঙ্গে থাকেন। তিনি বলেন, “দেশে এখনো কোনো নারী আসামির ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকর হয়নি।”

কারা সূত্র জানায়, সোমবার পর্যন্ত দেশের ১৪টি কেন্দ্রীয় ও ৬০টি জেলা কারাগারে বন্দির সংখ্যা ৮২ হাজার। ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার ৮৭৭ জন হওয়ায় বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ বন্দি থাকছেন।

কেন নারীদের ফাঁসি কার্যকর হয়নি—এ প্রশ্নে সাবেক ডিআইজি (প্রিজন্স) মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, আইন কোথাও নারীদের ফাঁসি না দেওয়ার বিধান নেই। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বহু ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এখন পর্যন্ত কোনো নারীর ক্ষেত্রে সেই সব আইনি ধাপ সম্পন্ন হয়ে কার্যকরির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে বহু নারী মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বছরের পর বছর কারাগারে থাকলেও দণ্ড কার্যকর হয়নি।

তিনি আরও বলেন, একসময় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের সেলের বাইরে যেতে দেওয়া হতো না, স্বজনরাও প্রহরায় সেলে গিয়ে সাক্ষাৎ করতেন। পরে নিয়ম বদলে সব বন্দির মতোই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।
কারাগার নিয়ে প্রচলিত মিথ প্রসঙ্গে তিনি জানান, রমজানে ফাঁসি কার্যকর না হওয়ার ধারণা পুরোপুরি সত্য নয়—আইনে এর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই; তবে ধর্মীয় কারণে সাধারণত রমজানে ফাঁসি দেওয়া হয় না।

কারাগার সূত্র আরও জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯৪ নারী বন্দির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে—সংখ্যা ৫৪ জন।

তথ্যসূত্র: সমকাল

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button