
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে আজ জবানবন্দি দেবেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একজন পদস্থ কর্মকর্তা। প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে ওই কর্মকর্তার নাম আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিটিসিএল কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের আগে রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন কর্মকর্তাকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জেরা শেষে নতুন সাক্ষীর জবানবন্দি শুরু হবে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে জুনাইদ আহমেদ পলক ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করেন। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা নৃশংস হামলা চালায়।
এ ছাড়া ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে মারণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য গোপন ও হত্যাযজ্ঞে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে। উত্তরা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৬২ জন নিহতের ঘটনায় তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
মামলার দুই প্রধান আসামির মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে কারাগারে থাকলেও সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন। পলাতক থাকায় জয়ের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম কাজ করছেন।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই আলোচিত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ



