আইন ও অপরাধ
প্রধান খবর

অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪ মামলা: সংসদে আইনমন্ত্রী

দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, ফৌজদারি কার্যবিধি আইন (সংশোধন)-২০২৬-এ এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারি করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে আরজি ও লিখিত জবাব দাখিল এবং সরাসরি জেরা করার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া ডিক্রি জারির জন্য পৃথক মামলা না করে মূল মামলাতেই সরাসরি দরখাস্ত দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

মামলার জট নিরসনে ৮৭১টি আদালত এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে। নতুন ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে স্টেনো-টাইপিস্ট, স্টেনোগ্রাফার, অফিস সহায়ক ও চালকের শূন্যপদে ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পদে আরও ৫৫৩ জন কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং মামলার জট নিরসনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিরোধী দলের এমপি শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও বিচারকদের বদলি ও পদায়নে দলীয় আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সে পথে না গিয়ে সততা, দক্ষতা ও বিচারিক আচরণকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিএনপি দলীয় এমপি ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের অপ্রাসঙ্গিক আইনগুলো চিহ্নিত করে সংশোধন বা নতুনভাবে প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ল কমিশন কাজ করছে।

সরকারদলীয় এমপি মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে ৪৬৭ জন বিচারককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত ৯৩ জন বিচারক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দুই জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু রয়েছে, যেখানে অনলাইনে পারিবারিক মামলা দায়ের, শুনানি ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিচার ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘ই-জুডিশিয়ারি’ প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়েরের সময় আসামির রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ না থাকায় মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।

সরকারদলীয় এমপি মনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের হওয়া মামলাগুলো যাচাই করে প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলছে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিল এবং কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।

সরকারদলীয় এমপি রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮০ দিন এবং দায়রা আদালতে ৩৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও, দেওয়ানি মামলার নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। মামলার প্রকৃতি ও জটিলতার ওপর ভিত্তি করে নিষ্পত্তির সময় ভিন্ন হতে পারে।

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button