
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন বেতন ও ভাতার সুপারিশ সংবলিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন আজ বুধবার বিকেল ৫টায় জমা দিতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন।
কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কাঠামোর তুলনায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থাকলেও তা দ্বিগুণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ধাপের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে।
বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন। পাশাপাশি নিচের দিকের গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সাল থেকে কার্যকরের পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত এই নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন (১ জুলাই) থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রায় ১০ বছর পর নতুন কাঠামোর অপেক্ষা শেষ
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ থাকলেও বাস্তবে প্রায় ১০ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কোনো বেতন কাঠামোর মুখ দেখতে যাচ্ছেন।
বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো ২০১৫ সালের পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
বুধবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর



