জাতীয়
প্রধান খবর

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ বেতন চূড়ান্ত!

জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির এক বৈপ্লবিক সুপারিশ করেছে। আজ বুধবার বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন পেশ করবেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন। জীবনযাত্রার ব্যয় ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনা করে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এই নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

নতুন সুপারিশে গ্রেড সংখ্যা আগের মতো ২০টিই রাখা হয়েছে। তবে বেতন স্কেলে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে:

সর্বনিম্ন ধাপ (২০তম): বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব।
সর্বোচ্চ ধাপ (১ম): ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ।
বাস্তবায়ন সময়সীমা: ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কেবল মূল বেতন নয়, উৎসব ও যাতায়াত ভাতাতেও বড় পরিবর্তনের সুপারিশ এসেছে:

বৈশাখী ভাতা: বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব।
যাতায়াত ভাতা: এতদিন ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড এই সুবিধা পেলেও এখন ১০ম গ্রেডকেও এর আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
বাড়িভাড়া: নিচের দিকের ধাপে (১১-২০তম) বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে এবং ওপরের ধাপে (১-১০ম) এটি কিছুটা কম হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেনশনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে:

পেনশন বৃদ্ধি: মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ১০০ শতাংশ, ২০-৪০ হাজার টাকা পাওয়াদের ৭৫ শতাংশ এবং এর বেশি পাওয়াদের ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

চিকিৎসা ভাতা: ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ১০ হাজার টাকা, সাধারণ ক্ষেত্রে ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন গঠন করে তাদের বেতন-ভাতা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। এই নতুন কাঠামোর ফলে সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করছে কমিশন।

তথ্যসূত্র: জনকণ্ঠ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button