
সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অন্যদিকে দেশের বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এর দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সন্ধ্যা থেকেই নতুন এই সমন্বিত দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজির মূল্য প্রতি কেজি ১৩২ টাকা ১২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে আগস্ট মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা করা হয়েছিল। জুলাই মাসে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। তারও আগে জুনের ১ হাজার ৮৮৫ টাকা থেকে জুলাইয়ে একলাফে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছিল দাম।
এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কিছুটা কমিয়েছে কমিশন। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা, যা আগে ছিল ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা। জুলাই মাসে এর দাম ছিল প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৪০ পয়সা।
এ ছাড়া বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম সেপ্টেম্বরের জন্য প্রতি ঘনমিটার ২৮৫ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম বা সৌদি সিপি এবং সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ভিত্তিতে প্রতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ের এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে ২০৪ টাকা
অন্যদিকে, দেশের বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন তেল ও পামওয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়বিষয়ক এক বৈঠক শেষে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ কমানো এবং ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলের শেষে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। চার মাসের মাথায় আবারও দাম বাড়ায় এখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হবে ২০৪ টাকা।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা, চিনির মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার পর বাজারে মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী দুই-এক মাস পর আবারও ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করা হতে পারে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত স্থিতিশীল হলে সার্বিক বাজার পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: একাত্তর টিভি



