জাতীয়
প্রধান খবর

রিমান্ড শেষে কারাগারে ডন, ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

সালমান শাহ হত্যা মামলা

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে অভিনয়শিল্পী ও খলনায়ক হিসেবে পরিচিত আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড আদেশ অনুযায়ী গত ৬ সেপ্টেম্বর ডনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতে উপস্থাপন করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, বুধবার তাকে হাজতে হাজির করে রাখা হলেও কোনো আবেদন না থাকায় আদালতে তোলা হয়নি।

ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণের দাবি

আদালতে পাঠানো পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ডন তাদের চেনেন বলে প্রকাশ করলেও মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কৌশলে গোপন করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তার সঙ্গে চলাফেরা করার কারণে ডন সালমানের বিভিন্ন বিষয়ে অবগত ছিলেন। সালমান শাহর মৃত্যু ও মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অত্যন্ত কৌশলে কথা বলেন।

তবে মামলার ঘটনার আগে, পরে এবং ঘটনার সময় ডনের আচার-আচরণ ও চালচলন পর্যালোচনায় ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে ডনকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার

গত ৯ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিনই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পরে ১২ আগস্ট আসামিপক্ষের করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। গত ২৭ আগস্ট আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

২৯ বছরেও মেলেনি মৃত্যুর রহস্যের সমাধান

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে সালমান শাহর মৃত্যু হয়। তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেছিলেন, নাকি তাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল-এই প্রশ্নের মীমাংসা গত তিন দশকেও হয়নি।

তার মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত এ ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য রয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button