জাতীয়প্রধান খবর

খালেদা জিয়াকে বাসায় চিকিৎসা করতে দেওয়া হচ্ছে, এই তো বেশি: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা করতে দেওয়া হচ্ছে, এই তো বেশি। যে আপনাকে হত্যা করতে চায়, তাঁকে আপনি কি ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসবেন। আমাকে মারতে অনেক চেষ্টা করেছে। এর পর খালেদার ওপর আমায় মায়া দেখাতে বলেন। আমার হাতে যেটুকু আছে, তার মাধ্যেমে তাঁকে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেছি। ওনারা ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের শেল্টার দিয়েছেন। বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে তাঁকে বাইরে পাঠানো নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার হাতে যা ছিল, তা দিয়ে তাঁকে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেছি। এখন এটা সম্পূর্ণ বিচার বিভাগের বিষয়।’

সংগঠনই নেই ইলেকশন করবে কিভাবে: প্রধানমন্ত্রী 

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি ইলেকশন নিয়ে প্রশ্ন করে কীভাবে। জিয়া হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে এসেছে। এর পর তাঁর অন্য নির্বাচনগুলো কি নির্বাচন ছিল? ১৯৮১ সালে নির্বাচনে কি হয়েছিল, তা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে চলে? ইলেকশন কীভাবে করবে তারা। করতে হলে সাংগঠনিক শক্তি দরকার, তা তো তাদের নাই। তৃণমূলে এমনভাবে উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ তাতে সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। কীভাব তারা ক্ষমতায় যাবে। তারা গ্রেনেড হামলা, গুপ্ত হত্যা ইত্যাদির মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। তারা ক্ষমতায় এসেছে অস্ত্রের মাধ্যমে। বিদেশ থেকে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাঁদের নেতারা।

কথায় কথায় হতাশ হবেন না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কথায় কথায় এত হতাশ হবেন না। এটা অনেকটা মানসিক সমস্যার মতো। আমরা একটুতে হতাশ হই, একটুতে উৎফুল্ল হই।’ 

আজ বুধবার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বারবারই ফিরে এসেছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও এবং সেই সূত্রে গণপরিবহনে যাত্রীপ্রতি ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গটি। বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ প্রভাস আমিন এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘ডিজেলের ভাড়া ২৩ শতাংশ বাড়লেও যাত্রীপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ২৭ শতাংশ। আবার এই জ্বালানি তেলের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে পরিবহন মালিকেরা ধর্মঘট না ডেকে পরিবহন বন্ধ রেখে জনগণকে জিম্মি করেন। এভাবে বারবারই তারা নিজেদের দাবি আদায় করে নিচ্ছে। এবারও তেমন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছে কিনা।’ 

এই প্রশ্নের সঙ্গেই প্রভাস আমিন আরেকটি প্রশ্ন জুড়ে দেন। এতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্স কি হতাশাজনক বলে মনে করেন কি? 

এই প্রশ্নের উত্তরেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এত হতাশ হচ্ছেন কেন। বাংলাদেশ আজকে বিশ্বকাপে খেলছে, দুই একটি দলকে হারাচ্ছে এটাই তো বড় কথা। তারা খেলছ এটাই অনেক। আমি চাচ্ছি তাদের আরও ট্রেনিং করানো। একটুতে হতাশ হওয়া যাবে না আবার বেশি উৎফুল্ল হওয়াও যাবে না। আগামীতে ভালো করবে।’ 

প্রতিরক্ষা খাতে আমার সরকার অন্যদের চেয়ে বেশি কাজ করেছে: প্রধানমন্ত্রী  

ইউরোপের সাথে সম্পর্ক নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যুদ্ধ করতে চাই না, শান্তি চাই। জাতিসংঘের শান্তি মিশনে আমাদের সেনাবাহিনী কাজ করে। কোং দিক দিয়ে যেন তারা  পিছিয়ে না থাকে সেটা নিশ্চিত করতেই আমি কাজ কথা বলেছি। সব জ্ঞান যেন তারা পায়। দেখান অনেক সামরিক শাসকেরা ক্ষমতায় ছিল কিন্তু তারা সামরিক বাহিনীর জন্য যা করেনি আমি তার চেয়ে বেশি করেছি। আমরা শুধু জাহাজ, অস্ত্র এসব কিনবই না, আমরা যেন প্রশিক্ষণও পাই এই সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।  আমার সরকার প্রতিরক্ষা খাতে অন্য সকল সরকারের চেয়ে বেশি কাজ করছে।

উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে যুবসমাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন আর শুধু চাকরি নয়, যুবসমাজ গড়ে উঠবে উদ্যোক্তা হিসেবে। তারা চাকরি না খুঁজে চাকরি দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে গড়ে উঠবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ সে সুযোগ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে দেশের যুবসমাজের প্রতি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার যুবসমাজের সৃজনশীল বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ তরুণ সংসদ সদস্য ও নেতৃত্ব একটা দিকনির্দেশনা তৈরি করেছেন। এরই মধ্যে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর হয়েছে। এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে ছেলেমেয়েরা আউটসোর্সিং করে আয় করছে। তারা ফ্রিল্যান্সিং করছে। শুধু দেশে নয়, ঘরে বসেই তারা সারা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এতে নয়টি ভাষা শেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলোর সুবিধা এরই মধ্যে তরুণ-যুবারা নিতে শুরু করেছেন। তাঁরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই যুবসমাজ চাকরি খুঁজবে না শুধু, তারা চাকরি দেবে। তারা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবে।

ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছে, মারামারি ও উসকানিও তারা দিচ্ছে  


ইউনিয়ন পরিষদে প্রতীকের মাধ্যমে নির্বাচন করায় সহিংসতা বেশি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে সহিংসতা কবে হয়নি? এর আগেও হয়েছে। কিন্তু আমরা এটা চাই না। আমাদের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য না।শুধু চেয়ারম্যানদের মধ্যে না মেম্বারদের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। চেয়ারম্যানে প্রতীক দিচ্ছি বলে সংঘর্ষ হচ্ছে তা কিন্তু না। বিএনপি সংঘর্ষ করছে, অন্যরাও করছে।  আমার দলের মধ্যে যেখানে হচ্ছে সেখানে ব্যবস্থা

জ্বালানি খাতে সরকার ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে

জ্বালানি খাতে সরকার ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গ্লাসগোতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৬ থেকে ফিরে আজ বুধবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। 

গত ৩ নভেম্বর ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটার ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। অর্থাৎ, প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে পরিবহন মালিকেরা ধর্মঘট ডাকে। প্রায় অচল হয়ে পড়ে দেশ। এ অবস্থায় সরকার আলোচনায় বসে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ভাড়া ও ব্যয় সমন্বয় করে নতুন হার নির্ধারণ করে দেয়। এ নিয়ে আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী ভর্তুকির প্রসঙ্গটি টানেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জ্বালানি খাতে সরকার বছরে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। শুধু ডিজেলেই ২৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। কৃষকের কথা মাথায় রেখে ডিজেল, সার, বিদ্যুৎ ইত্যাদি কম খরচায় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী করোনায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, করোনার সময় ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়েছে। তাদের সহায়তায় সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যেখানে অর্ধেক সুদে ঋণ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার এত ভর্তুকি কীভাবে দেবে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশেও ডিজেলের দাম বেড়েছে। সে অনুপাতে সরকার এখনো বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ফ্রান্স: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গ্লাসগোতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৬ থেকে ফিরে আজ বুধবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। 

বুধবার বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। এতে জলবায়ু সম্মেলনে হওয়া অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্মেলনের এক ফাঁকে গত ৯ নভেম্বর তিনি ফ্রান্স সফর করেন। সেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ভবন এলিজি প্যালেসে আমন্ত্রিত হন তিনি। সেখানে অনুষ্ঠিত একান্ত বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ নানা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। 

ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ শুরুর জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এ প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতিসহ অন্যান্য খাতে দুই দেশের কার্যক্রম বাড়ানোর ব্যাপারে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন তিনি। 

একই দিনে ফরাসি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ।’ স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন থেকে ফিরে আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। এতে জলবায়ু সম্মেলনে হওয়া অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জানান, দরিদ্র দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ধনী দেশগুলোর পক্ষ থেকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সম্মেলন চলাকালে ছয়টি বহুপক্ষীয় ও পাঁচটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তিনি। এসব বৈঠকে বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। -আজকের পত্রিকা

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button