
পবিত্র রমজান মাস ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। কুরআন-এ রোজা ফরজ করা হয়েছে এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর হাদিসে এর বিধান বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। রোজা শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহ নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত থাকাই রোজা।
নিচে ফিকহের কিতাবসমূহের আলোকে রোজা ভেঙে যাওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরা হলো-
যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়
- ১. ভুলে খাওয়া বা পান করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে আবার খাওয়া বা পান করা।
- ২. বিড়ি, সিগারেট বা হুঁকা সেবন করা।
- ৩. কাঁচা চাল, আটার খামির বা একত্রে অনেক লবণ খাওয়া।
- ৪. সাধারণত খাদ্য নয়-এমন বস্তু (কাঠ, লোহা, কাগজ, পাথর, মাটি, কয়লা ইত্যাদি) খাওয়া।
- ৫. পাথর, কাদামাটি, কঙ্কর, তুলা, সুতা, তৃণলতা, খড়কুটো বা কাগজ গিলে ফেলা।
- ৬. নিজের থুতু হাতে নিয়ে পরে তা গিলে ফেলা।
- ৭. ভুলে সহবাসের পর রোজা ভেঙেছে মনে করে পুনরায় ইচ্ছাকৃত সহবাস করা।
- ৮. কানে বা নাকের ছিদ্র দিয়ে তরল ওষুধ প্রবেশ করানো।
- ৯. দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে তা থুতুর চেয়ে বেশি পরিমাণে কণ্ঠনালিতে চলে যাওয়া।
- ১০. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়া এবং এ অবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়া।
- ১১. হস্তমৈথুন করা।
- ১২. রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় কুলি বা নাকে পানি দেওয়ার সময় পানি কণ্ঠনালিতে চলে যাওয়া।
- ১৩. কাউকে জোরপূর্বক পানাহার করানো।
- ১৪. রাত হয়েছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর সাহরি খাওয়া।
- ১৫. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা বা বমি এসে গেলে তা গিলে ফেলা।
- ১৬. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ভুল সময়ে ইফতার করা।
- ১৭. রাত মনে করে সহবাসে লিপ্ত হয়ে পরে সুবহে সাদিক হয়েছে জানতে পারলে-যদিও সঙ্গে সঙ্গে বিরত হয়।
- ১৮. বৃষ্টি বা বরফের টুকরো খাদ্যানালিতে প্রবেশ করা।
- ১৯. অজুর সময় কুলি বা নাকে পানি দেওয়ার সময় অসতর্কতায় ভেতরে পানি চলে যাওয়া।
উপরের অনেক বিষয়ের ক্ষেত্রে শুধু কাজা ওয়াজিব হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হতে পারে-এটি পরিস্থিতি ও মাজহাবভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট মাসআলার জন্য আলেম বা নির্ভরযোগ্য মুফতির সঙ্গে পরামর্শ করা উত্তম।


