ধর্ম
প্রধান খবর

মুহাররম মাসের আইয়ামে বীজের রোজা শুরু সোমবার

হিজরি বছরের প্রথম মাস মুহাররম। এটি ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এ মাসে নফল ইবাদতের ফজিলত অত্যন্ত বেশি। এর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো আইয়ামে বীজের রোজা। প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে এ তিনটি নফল রোজা পালন করা সুন্নত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়মিত এ রোজা রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।

১৪৪৮ হিজরির মুহাররম মাসে আইয়ামে বীজের রোজা শুরু হবে ১৩ মুহাররম, ২৯ জুন (সোমবার) এবং শেষ হবে ১৫ মুহাররম, ১ জুলাই (বুধবার)। যারা এ রোজা পালন করতে ইচ্ছুক, তাদের ২৮ জুন (রোববার) দিবাগত রাতে সেহরি গ্রহণ করতে হবে।

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন-

إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا… مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত (হারাম)।’ (সুরা আত-তাওবা: ৩৬)

মুহাররম সেই চারটি সম্মানিত মাসের একটি। এ মাসে নেক আমলের সওয়াব বৃদ্ধি পায় এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকার গুরুত্বও বেশি।

প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। এ সময় চাঁদের আলো পূর্ণতা লাভ করে বলে এ দিনগুলোর এমন নামকরণ হয়েছে। এ তিন দিন নফল রোজা পালন করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-

صَوْمُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ

অর্থ: ‘প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমান।’ (সহিহ বুখারি: ১৯৭৫, ১৯৭৬; সহিহ মুসলিম: ১১৫৯)

হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-

يَا أَبَا ذَرٍّ، إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلَاثًا، فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ

অর্থ: ‘হে আবু যার! যদি তুমি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখো, তবে (আরবি মাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখো।’ (জামে তিরমিজি: ৭৬১, সুনানে নাসাঈ: ২৪২৪)

আইয়ামে বীজের রোজার সময়সূচি:

  • ১৩ মুহাররম – ২৯ জুন (সোমবার)
  • ১৪ মুহাররম – ৩০ জুন (মঙ্গলবার)
  • ১৫ মুহাররম – ১ জুলাই (বুধবার)

যারা এই তিনটি নফল রোজা পালন করবেন, তারা প্রথম রোজার জন্য ২৮ জুন (রোববার) দিবাগত রাতে সেহরি গ্রহণ করবেন।

আইয়ামে বীজের রোজা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল ইবাদত। মহানবী (সা.) নিজে এ রোজা পালন করেছেন এবং উম্মতকে এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। মুহাররমের বরকতময় দিনগুলোতে এই সুন্নত আমল পালন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা প্রতিটি মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইখলাসের সঙ্গে এ আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button