
কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মত্যাগ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মহান ইবরাহিম (আ.)-এর আদর্শ অনুসরণের শিক্ষা। ইসলামে কুরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হজরত যায়েদ বিন আরক্বাম (রা.) থেকে বর্ণিত, সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! এই কুরবানি কী?” জবাবে তিনি বলেন, “এটি তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত।” সাহাবিরা জানতে চান, এতে কী ফজিলত রয়েছে? তখন রাসুল (সা.) বলেন, “কুরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে।” (ইবনে মাজাহ)
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানি করা জায়েজ এবং এটি সওয়াবের কাজ। যেমন মৃত ব্যক্তির নামে সদকা করা যায়, তেমনি তার পক্ষ থেকেও কুরবানি করা যায়। এর সওয়াব মৃত ব্যক্তির আমলনামায় পৌঁছে যায়।
এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলেন, “আমার মা হঠাৎ ইন্তেকাল করেছেন। তিনি কোনো অসিয়ত করে যেতে পারেননি। আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি, তাহলে কি তিনি সওয়াব পাবেন?” রাসুল (সা.) জবাবে বলেন, “হ্যাঁ।” (সহিহ বুখারি: ১৩৩৮, সহিহ মুসলিম: ১০০৪)
তবে আলেমরা বলেন, যদি নিজের ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়, তাহলে আগে নিজের কুরবানি আদায় করতে হবে। এরপর চাইলে মৃত আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকেও কুরবানি করা যাবে। নিজেকে বাদ দিয়ে শুধু মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানি করা সঠিক নয়।
হাদিসে আরও এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) ও আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরবানির সময় দুটি দুম্বা জবাই করেছিলেন। একটি তিনি তার উম্মতের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করেন। (ইবনে মাজাহ)
ইসলামে কুরবানি আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রতীক। তাই কুরবানির আমল যথাযথ নিয়মে আদায় করার পাশাপাশি মৃত স্বজনদের জন্যও দোয়া ও সওয়াবের নিয়তে কুরবানি করা উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত।


