
পবিত্র জিলহজ মাসে সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সঙ্গে ইসলামে কিছু বিশেষ আমলের কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- জিলহজের চাঁদ ওঠার পর কোরবানি না দেওয়া পর্যন্ত চুল, পশম ও নখ না কাটা।
ইসলিামী শরিয়ত অনুযায়ী, যারা কোরবানি করবেন তাদের জন্য জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার আগে পর্যন্ত শরীরের কোনো চুল-পশম বা নখ না কাটা মুস্তাহাব।
এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যার কোরবানির পশু রয়েছে, সে যেন জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে।”
– (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৯১)
তবে এ বিধান পালনের কারণে যদি নখ কাটা বা নাভির নিচের পশম পরিষ্কারের সময়সীমা ৪০ দিন অতিক্রম হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে অবশ্যই ৪০ দিনের মধ্যে তা পরিষ্কার করে নিতে হবে।
হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত,
“গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের লোম পরিষ্কার করা এবং নাভির নিচের পশম কাটার জন্য আমাদের ৪০ দিনের বেশি দেরি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।”
– (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৮৭)
সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িরাও জিলহজের এই দিনগুলোতে চুল-নখ কাটা অপছন্দ করতেন।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এক নারীকে জিলহজের দশকে তার সন্তানের চুল কাটতে দেখে বলেন,
“সে যদি কোরবানির দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করত, তাহলে ভালো হতো।”
– (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস : ৭৫৯৫)
এ আমল কেবল কোরবানিদাতার জন্যই নয়, কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই- এমন ব্যক্তির জন্যও উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা।
এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে বলেন,
“তুমি নখ, চুল ও গোঁফ কাটবে এবং নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর কাছে তোমার পূর্ণ কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে।”
– (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৭৭৩, ৫৯১৪)
তাই যারা কোরবানি করবেন, তারা জিলহজের চাঁদ ওঠার আগেই প্রয়োজনীয় চুল-নখ পরিষ্কার করে নিতে পারেন। এরপর কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর তা কাটাই উত্তম।
তথ্যসূত্র: আরটিভি



