
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে শুক্রবার বা পবিত্র জুমার দিন মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ। জুমার নামাজের আগে খতিবের দুটি খুতবা দেওয়ার প্রচলন রয়েছে।
জুমার খুতবায় মহান আল্লাহর প্রশংসা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ, তাকওয়ার উপদেশ এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা হয়। খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা জুমার আদবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।জুমার খুতবা শোনার আদব
খুতবা চলাকালে মনোযোগ দিয়ে নীরব থাকা জুমার গুরুত্বপূর্ণ আদব। সহিহ বুখারির ৯৩৪ নম্বর হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-জুমার খুতবা চলাকালে কেউ পাশের ব্যক্তিকে ‘চুপ করো’ বললেও সে অনর্থক কাজে লিপ্ত হলো।
তাই খুতবার সময় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, হৈচৈ বা এমন কোনো কাজে ব্যস্ত হওয়া উচিত নয়, যা খুতবা শোনার মনোযোগ নষ্ট করে।
জুমার প্রথম খুতবা
প্রথম খুতবায় সাধারণত মহান আল্লাহর প্রশংসা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ এবং তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দেওয়া হয়।
খুতবাতুল হাজাহ
বাংলা উচ্চারণ:
ইন্নাল হামদা লিল্লাহি, নাহমাদুহু ওয়া নাসতাঈনুহু ওয়া নাসতাগফিরুহু, ওয়া নাউযু বিল্লাহি মিন শুরুরি আনফুসিনা ওয়া মিন সাইয়্যিআতি আমালিনা। মাই ইয়াহদিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লা লাহু, ওয়া মাই ইউদলিল ফালা হাদিয়া লাহু। ওয়া আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।
বাংলা অর্থ:
“নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের খারাপ কাজ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ হেদায়েত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।”
তাকওয়ার আয়াত
বাংলা উচ্চারণ:
ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুত্তাকুল্লাহা হাক্কা তুকাতিহি, ওয়া লা তামুতুন্না ইল্লা ওয়া আনতুম মুসলিমুন।
বাংলা অর্থ:
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে কখনো মৃত্যুবরণ করো না।”
-সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০২
এরপর খতিব প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো ধর্মীয় বিষয় নিয়ে মুসল্লিদের নসিহত করতে পারেন।
প্রথম খুতবার সমাপ্তি
বাংলা উচ্চারণ:
আকুলু কাওলি হাজা, ওয়া আসতাগফিরুল্লাহা লি ওয়া লাকুম ওয়া লিসাইরিল মুসলিমিনা মিন কুল্লি যাম্বিন, ফাসতাগফিরুহু ইন্নাহু হুয়াল গাফুরুর রহিম।
বাংলা অর্থ:
“আমি আমার এ কথাগুলো এখানেই শেষ করছি এবং আমার জন্য, আপনাদের জন্য ও সব মুসলিমের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। অতএব, আপনারাও তাঁর কাছে ক্ষমা চান। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
এরপর খতিব কিছুক্ষণ বসবেন এবং পুনরায় দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় খুতবা দেবেন।
জুমার দ্বিতীয় খুতবা
দ্বিতীয় খুতবায় সাধারণত আল্লাহর প্রশংসা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা হয়।
প্রশংসা ও দরুদ
বাংলা উচ্চারণ:
আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিনা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমাঈন। ইন্নাল্লাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লুনা আলান নাবিয়্যি; ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানু সাল্লু আলাইহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।
বাংলা অর্থ:
“সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের রাসুল মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবার এবং সব সাহাবির ওপর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক। নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।”
মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাগফির লিলমুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাতি, আল-আহইয়াই মিনহুম ওয়াল আমওয়াত।
বাংলা অর্থ:
“হে আল্লাহ! আপনি সব মুমিন পুরুষ ও নারী এবং মুসলিম পুরুষ ও নারীকে ক্ষমা করুন-তাদের মধ্যে যারা জীবিত এবং যারা মৃত্যুবরণ করেছে, সবাইকে।”
দ্বিতীয় খুতবার শেষাংশ
বাংলা উচ্চারণ:
ইবাদাল্লাহ! ইন্নাল্লাহা ইয়ামুরু বিল আদলি ওয়াল ইহসানি ওয়া ইতাই জিল কুরবা, ওয়া ইয়ানহা আনিল ফাহশাই ওয়াল মুনকারি ওয়াল বাগই; ইয়াইজুকুম লাআল্লাকুম তাযাক্কারুন।
বাংলা অর্থ:
“হে আল্লাহর বান্দারা! নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন। আর তিনি অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারো।”
-সূরা আন-নাহল, আয়াত ৯০
খুতবার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত
খুতবা চলাকালে মুসল্লিদের নীরব থেকে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা উচিত। বিশেষ করে-
- অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা;
- অন্য মুসল্লির সঙ্গে আলাপ না করা;
- মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মনোযোগ নষ্ট না করা;
- উচ্চস্বরে জিকির বা এমন কোনো কাজ না করা, যাতে অন্যের খুতবা শোনায় ব্যাঘাত ঘটে;
- খুতবার সময় অন্যকে কথা বলতে নিষেধ করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা।
জুমার খুতবা মুসল্লিদের জন্য দ্বীনি শিক্ষা, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। তাই খুতবার সময় মনোযোগ ও সম্মানের সঙ্গে তা শোনা এবং এর শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা উচিত।


