শিবগঞ্জ উপজেলা

মহাস্থানগড়ে খননে মিলল প্রত্ননিদর্শন

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে গুপ্ত শাসনামলের (৩২০ থেকে ৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ) নানা প্রত্ননিদর্শন মিলেছে। এ ছাড়া মহাস্থানগড় দুর্গনগরীর ভেতরে মিলেছে পাল শাসনামলের (৮০০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) চারটি বৌদ্ধ সমাধিসৌধ এবং একটি বৌদ্ধমন্দিরের স্থাপত্যকাঠামো।

শনিবার মহাস্থান জাদুঘর চত্বরের বৈরাগীর ভিটায় খনন থেকে প্রাপ্ত প্রত্নবস্তুর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রতন চন্দ্র পণ্ডিত এই প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মহাস্থানগড়ে এবারের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কার্যক্রম এবং প্রাপ্ত প্রত্নবস্তুর বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান। পরে মহাপরিচালক গোবিন্দভিটায় খননকাজ পরিদর্শন করেন।

খননকাজের মাঠ পরিচালক এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা বলেন, খননকাজে গুপ্ত আমলের পোড়ামাটির ফলক, নর্দান ব্ল্যাক পলিশড ওয়্যারের বিশেষ ধরনের উত্তরাঞ্চলীয় কালো মৃৎপাত্রের টুকরা, প্রত্নযুগের টেরাকোটার ইটফলক, পোড়ামাটির তৈজসপত্র, মাটির প্রদীপ, প্রাচীন লিপিখচিত সিল, প্রত্নযুগের অলংকৃত ইট, ভগ্ন মৃৎপাত্র, পোড়ামাটির তৈরি মানবমূর্তি, পোড়ামাটির খেলনার ভগ্নাংশ, তৈজসপত্রের ভগ্নাংশ, পোড়ামাটির পাখি, প্রদীপ, কালির দোয়াত, পাথরের গুটিকা, পোড়ামাটির তৈরি পাশা খেলার ছক্কা, মাদুলিসহ নানা প্রত্ননিদর্শন মিলেছে। এ ছাড়া পাল আমলের চারটি বৌদ্ধ সমাধিসৌধ এবং একটি বৌদ্ধমন্দিরের প্রাচীন স্থাপত্যকাঠামোর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে পঞ্চদশ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন আমলের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড় বা পুণ্ড্রনগর। প্রাচীরবেষ্টিত পাঁচ হাজার ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ হাজার ৫০০ ফুট প্রশস্তের মহাস্থানগড়ের ভেতরে ও বাইরের প্রত্ননিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পরশুরাম প্যালেস, জিয়ৎ কুণ্ড, গোবিন্দ ভিটা, বৈরাগীর ভিটা, খোদার পাথর ভিটা, মানকালীর কুণ্ড, মুনির ঘোন, শিলা দেবীর ঘাট, বেহুলার বাসরঘর, ভীমের জাঙ্গাল, ভাসুবিহার, বিহার ধাপসহ নানা প্রত্ন ও স্থাপত্য নিদর্শন।

এসএ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button