
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’। শিক্ষকদের মহতী অবদান স্মরণ এবং তাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর এ দিনে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হলো-‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’।
আন্তর্জাতিক এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
দিবসটি উদযাপনের অংশ হিসেবে আজ দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে নগদ ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও বিশেষ সম্মাননা সনদ তুলে দেবেন।
বিগত সময়ে জাতীয় পর্যায়ে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে এ সম্মাননা দেওয়া হলেও এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মোট ১০০ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ের এই মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই জাতীয় সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত পৃথক সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এই ১০০ জন শিক্ষককে চূড়ান্ত করেছে।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী এ বছর প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিক স্তরে ২০ জন, কলেজে ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন, মেডিকেল কলেজে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ জন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় ৫ জনসহ মোট ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষকমণ্ডলী তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি গড়ে তোলেন।
শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত গবেষণামুখী ও বাস্তবসম্মত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবরকে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রথমবার এবং ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দিবস পালনের ধারাবাহিকতা শুরু হয়।

